June 17, 2022 || 2:18 pm

হিজরতের সময় যে পাহাড়ে, আশ্রয় নিয়েছিলেন মহানবী (সা.)..!

কাবা থেকে ১২ কিলোমিটার দক্ষিণে জাবালে, সাওরের অবস্থান। যার উচ্চতা প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার ফিট।, মক্কা থেকে মদিনায় হিজরতের সময় মহানবী (সা.) এই পাহাড়ের একটি গুহায় আশ্রয় নিয়েছিলেন। তাঁর সঙ্গে ছিলেন আবু বকর সিদ্দিক (রা.)। ঐতিহাসিকরা লেখেন, ২৭ সফর মোতাবেক সেপ্টেম্বর ৬২২ খ্রিস্টাব্দে রাসুলুল্লাহ (সা.), হিজরতে উদ্দেশ্যে ঘর ত্যাগ করেন। (মুসলিম উম্মাহর ইতিহাস : ১/৩৮৪)

ঘর থেকে বের হয়ে মহানবী (সা.) সতর্কতাস্বরূপ, মদিনার বিপরীত দিক তথা ইয়ামেনের দিকে পাঁচ মাইল, এগিয়ে যান। তারা মক্কা থেকে দক্ষিণে অবস্থিত ‘সাওর’ পাহাড়ের একটি গুহায় আশ্রয়, নেন। এটা ছিল অত্যন্ত উঁচু পাহাড়। পাহাড়ে উঠতে গিয়ে মহানবী (সা.)-এর পা কেটে, যায়। সতর্কতা স্বরূপ আবু বকর (রা.) আগে গুহায় প্রবেশ, করেন এবং তা পরিষ্কার করেন। নিজের ‘তহবন্ধ’ ছিঁড়ে গুহার ছিদ্রগুলো বন্ধ করেন। দুটি ছিদ্র, অবশিষ্ট থাকলে নিজের পা দিয়ে তা বন্ধ করে রাখেন। রাতের, বেলা তাঁর পায়ে বিষাক্ত কিছু দংশন করে। মহানবী (সা.) বিষয়টি জানতে পেরে ক্ষতস্থানে, নিজের থুথু মোবারক লাগিয়ে দেন। (খাতামুন নাবিয়্যিন, পৃষ্ঠা ৪৫৯)

হিজরতের বিষয়টি অত্যন্ত গোপন রাখা হয়। শুধু, আবু বকর (রা.)-এর পরিবারের কয়েকজন সদস্য বিষয়টি, জানতেন। আসমা বিনতে আবু বকর (রা.) প্রতিদিন সন্ধ্যায় তাদের জন্য খাবার নিয়ে, যেতেন। আবদুল্লাহ ইবনে আবু বকর (রা.) সারা দিন ঘুরে, ঘুরে মক্কা নগরীর সংবাদ সংগ্রহ করতেন এবং রাতের বেলা তা মহানবী (সা.)-এর কাছে পৌঁছে, দিতেন। আবু বকর (রা.)-এর আজাদ করা গোলাম আমের ইবনে, ফুহাইরা আবদুল্লাহ (রা.)-এর চলার পথে বকরির পাল নিয়ে, যেতেন যেন পায়ের চিহ্ন না থাকে। তিনি সন্ধ্যার সময় গুহার কাছে গিয়ে বকরি দুধ খাইয়ে আসতেন।,, (আর-রাহিকুল মাখতুম, পৃষ্ঠা ১৭৫)

কুরাইশ নেতারা ঘোষণা করে কেউ মুহাম্মদ (সা.)-কে, জীবিত বা মৃত উপস্থিত করতে পারলে তাকে এক শ উট, উপহার দেওয়া হবে। ফলে বহু মানুষ তাঁর সন্ধানে বের হয়। এমনকি একটি অনুসন্ধানী দল ‘সাওর’ পর্বতের গুহার সামনে উপস্থিত। আবু বকর (রা.) তাদের দেখে ভয় পেয়ে, গেলে রাসুলুল্লাহ (সা.) তাঁকে সান্ত্বনা দেন। অন্যদিকে আল্লাহর, ইশারায় গুহার মুখে মাকড়সা ও বন্য কবুতর বাসা বেঁধে ছিল। তাই অনুসন্ধানকারী কোনো, প্রকার সন্দেহ না করেই চলে যায়। রাসুলুল্লাহ (সা.) ও আবু, বকর (রা.) সাওর পর্বতের গুহায় তিন দিন অবস্থান করেন। (মিন মুয়িনিস সিরাতে, পৃষ্ঠা ১৫৮; সিরাতে খাতামুল আম্বিয়া, পৃষ্ঠা ৪৮)
পবিত্র কোরআনে সে মুহূর্তের বিবরণ, এভাবে এসেছে, ‘যখন অবিশ্বাসীরা তাকে বহিষ্কার করেছিল এবং সে, ছিল দুজনের দ্বিতীয়জন, যখন তারা উভয়ে গুহার মধ্যে ছিল; সে তখন তার সঙ্গীকে বলেছিল, বিষণ্ন হয়ো না, আল্লাহ তো আমাদের সঙ্গে আছেন।’ (সুরা তাওবা, আয়াত : ৪০)

Related Posts
x