স্ত্রীর অধিকার আদায়ে চেয়ারম্যানের বাড়িতে অনশন, আত্মহত্যার হুমকি!

বরগুনার তাল’তলীতে স্ত্রীর অধিকার আদায়ে চেয়ারম্যানের বাড়িতে আমরণ অন’শনে বসেছেন এক ভূক্তভোগী এক তরুণী। ওই তরুণী উপজেলার নিশান’বাড়িয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান দুলাল ফরাজীর ছোট ভাই জলিল ফরাজীর পুত্র রাকিব ফরাজির স্ত্রী। স্ত্রী হিসেবে মেনে না নিলে সে আত্ম’হত্যার হুমকি দিয়েছেন।

জানা গেছে, শুক্র’বার ১১টা থেকে আজ শনিবার টানা দুই দিন পর্যন্ত নিশান’বাড়িয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান দুলাল ফরাজীর বাড়িতে স্ত্রীর অধিকার ও শ্বশুর’বাড়ির লোকজন মেনে না নেয়ার কারণে এ আমরণ অনশন শুরু করেছে ওই তরুণী। চেয়ার’ম্যানের বাড়ি উঠার পর থেকেই চেয়ারম্যান দুলাল ফরাজী তার পরি’বার পরিজন নিয়ে বাড়ি ছেড়ে অন্যত্র চলে গিয়ে থানায় একটি সাধারণ ডা’য়েরি করেছেন। এরপর থেকে তিনি সকল প্রকার যোগা’যোগ বন্ধ করে দিয়েছেন।

আমরণ অনশন’রত তরুণী বলেন, নিশানবাড়িয়া ইউনিয়নের চেয়ার’ম্যান দুলাল ফরাজীর ভাই জলিল ফরাজীর পুত্র রাকিবের সাথে তার এক বছর ধরে প্রেমের সম্পর্ক ছিলো। বিয়ের আশ্বাসে রাকিব তার সাথে একাধিক’বার শারীরিক সম্পর্কও করেন বলে তিনি জানায়।

এরপর বারবার আশ্বাস দিয়েও বিয়ে না করে তার সঙ্গে সকল প্রকার যোগা’যোগ বন্ধ করে দেয়ার পাশাপাশি বাড়াবাড়ি না করার জন্য পরিবারের সদস্য’দের দিয়ে হুমকি দিতে থাকে।

পরে ভূক্তভোগী ওই নারী তাল’তলী থানায় ধর্ষণ মামলার প্রস্তুতি নিতে গেলে চেয়ারম্যান দুলাল ফরাজীর মধ্যস্থতায় বিয়ে’তে রাজি হন রাকিব। এরপর গত ১৮ জুলাই তাল’তলী উপজেলা পরিষদের সাবেক মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান দেলোয়ারা হামিদ, থানার একজন নারী পুলিশ কর্মকর্তা’সহ উভয় পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতে তিন লাখ টাকা কাবিনে তাদের বিয়ে হয়।

বিয়ের পরে কিছুদিন ওই তরুণী শ্বশুর বাড়ি’তে অবস্থান করে সংসার করার পরে হঠাৎ অসুস্থ্য হয়ে পড়লে তাকে কোন প্রকার চিকিৎসা না করিয়ে স্বামী রাকিবের বাবা- মা তার বাবার বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়। বাবার বাড়িতে যাও’য়ার পর থেকে স্বামী রাকিব তার সাথে সকল প্রকার যোগা’যোগ বন্ধ করে পালিয়ে বেড়াচ্ছে। কিছুদিন পরে সুস্থ্য হয়ে শ্বশুর বাড়ি’তে গেলেও তাকে মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে বাড়িতে ঢুকতে দেয়নি স্বামী রাকিবের বাবা-মা। তারপর অভিভাবক’দের সঙ্গে কথা বলেও কোনো সুরাহা না হওয়ায় তিনি গতকাল থেকে চেয়ারম্যানের বাড়িতে আমরণ অনশনে বসেছেন। তাকে স্ত্রী হিসেবে মেনে না নিলে তিনি সেখানেই আত্ম’হত্যা করবেন বলেও হুমকি দিয়েছেন।

ভূক্ত’ভোগী তরুণী আরো বলেন, ‘আমি আমার স্বামীকে চাই। স্ত্রীর মর্যাদা নিয়ে শ্বশুর’বাড়িতে থাকতে চাই। আমার বিয়ের সময় চেয়ারম্যান দুলাল ফরাজী উপস্থিত ছিলেন কিন্তু এখন তিনিও এ বিষয়ে কোনো প্রকার সহ’যোগিতা করছেন না।’

তরুণীর বাবা বলেন, ‘আমার মেয়েকে বিয়ে করে এখন তারা অস্বী’কার করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। আমি চাই তারা আমার মেয়ে’কে স্ত্রীর মর্যাদা দিয়ে ঘরে তুলে নিক।’

এ বিষয়ে জানতে স্বামী রাকিব ও তার পিতা জলিল ফরাজীর সঙ্গে তাদের ব্যব’হৃত মুঠোফোনে একাধিকবার কল দিলেও তাদের দু’জনের মুঠো’ফোন বন্ধ পাওয়া গেছে।

নিশান’বাড়িয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান দুলাল ফরাজীকে মুঠোফোনে কল দিলে তিনি রিসিফ করে ‘আমি ব্যস্ত আছি এবং এ বিষয়ে আমি কোনো কথা বলতে চাই না। ছেলের বাবার সঙ্গে আপনারা যোগা’যোগ করেন বলে ফোনের লাইন’টি কেঁটে দিয়ে মুঠো’ফোনটি বন্ধ করে রাখেন।

এ বিষয়ে তাল’তলী থানার পরিদর্শক ওসি কামরুজ্জামান মিয়া মুঠোফোনে বলেন, নিশান’বাড়িয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান দুলাল ফরাজী গতকাল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছেন। ঘটনা’স্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। অনশণরত তরুনীর দাবি তাকে স্ত্রী হিসেবে মেনে নেয়া এবং তার স্বামী’কে তার কাছে ফিরিয়ে না দেওয়া হলে তিনি এখান থেকে কোথাও যাবেন না।

Leave a Reply

x