সিলেটে বন্যা: খাবার, ও বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট..!

সিলেটে বন্যাদুর্গত মানুষ খাবার ও বিশুদ্ধ, পানির সংকটে। কর্মহীন হয়ে পড়া ও নিম্ন আয়ের মানুষ, খাবার জোগাড় করতে হিমশিম খাচ্ছেন। বেশির ভাগ মানুষই সরকারি ত্রাণের অপেক্ষায়। সে তুলনায়, ত্রাণের সরবরাহ কম।

গতকাল শনিবার সকালে প্রবাসী, কল্যাণ মন্ত্রী ইমরান আহমদ জেলার কোম্পানীগঞ্জে আনুষ্ঠানিক ত্রাণ কার্যক্রম শুরু, করলে মানুষের মধ্যে কাড়াকাড়ি লেগে যায়। অনেকে ত্রাণ, ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। এতে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ত্রাণ না, পেয়ে দুর্গত মানুষ হতাশা প্রকাশ করে।

কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ইসলামপুুর পশ্চিম ইউনিয়ন, পরিষদ চেয়ারম্যান মো. জিয়াদ আলী বলেন, ‘প্রশাসনের পক্ষ, থেকে ত্রাণ দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু বন্যার্তদের তুলনায় তা পর্যাপ্ত নয়। এতে এক পরিবারকে, দিলে আরেক পরিবারকে দেওয়া যাচ্ছে না। ত্রাণ বিতরণ করতে, গেলে মানুষ জোর করে নিয়ে যেতে চায়। ’ উদাহরণ তুলে, ধরে তিনি বলেন, ন্যূনতম পাঁচ হাজার প্যাকেট ত্রাণ দরকার যেখানে, সেখানে মন্ত্রী বিতরণ, করেছেন ২০ প্যাকেট।

ত্রাণ না পেয়ে উপজেলার পশ্চিম ইসলামপুর, লাছুখাল গ্রামের আরজু বেগম বলেন, ‘আমার স্বামীও নেই, ছেলেসন্তানও নেই। ঘরের ভেতর, কোমরপানি। রাস্তায় গলাপানি ভেঙে ত্রাণ, নিতে এসেও পাইনি। আমার বুকটা ফেটে যাচ্ছে।’

কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ইছাকলস ইউনিয়ন পরিষদের, চেয়ারম্যান সাজ্জাদুর রহমান সাজু বলেন, ‘আমার ইউনিয়নে, প্রায় সাড়ে চার হাজার পরিবার। বৃহস্পতিবার পেয়েছিলাম দু,ই টন চাল। ১০ কেজি করে এ ত্রাণ ২০০ পরিবারকে, দেওয়া যাবে। এখন নারী সদস্যসহ ৯ ইউনিয়নে ১২ জন ইউনিয়ন সদস্য। তাঁরা একেকজন গড়ে ১৫ জনকে, দিতে পারবেন। একটি ওয়ার্ডে আছে ৫০০ পরিবার আর ত্রাণ, দেওয়া যাচ্ছে মাত্র ১৫ পরিবারকে। ’

জেলার বন্যা আক্রান্ত উপজেলাগুলোর, প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, জেলার ১১ উপজেলায় ব,ন্যায় সাত লাখ ৮৫ হাজার ৮২৫ মানুষ পানিবন্দি। এর মধ্যে দুই, লাখ ৪০ হাজার জন সিলেট সদর উপজেলায়। এ ছাড়া জকিগঞ্জে এক লাখ ৮০ হাজার, কানাইঘাটে ৬৫,, হাজার, বিয়ানীবাজারে ৬৯ হাজার ৮৭৫, জৈন্তাপুরে ৫০ হাজার, কোম্পানীগঞ্জে ৪৬ হাজার ৫০০, গোয়াইনঘাটে, ৪৫ হাজার, বিশ্বনাথে ৪০ হাজার এবং গোলাপগঞ্জে ৪৫ হাজার মানুষ পানিবন্দি। দক্ষিণ সুরমা,য় তিন হাজার ৪৫০ ও ফেঞ্চুগঞ্জে এক হাজার মানুষ পানিবন্দি।

জানা গেছে, গতকাল সকাল ১০টায় কোম্পানীগঞ্জ, উপজেলা পরিষদের থানা বাজার পয়েন্টে ত্রাণ বিতরণ, কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন মন্ত্রী ইমরান আহমদ। মন্ত্রী নিজে কয়েকজনের হাতে ত্রাণ তুলে দিয়ে, অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ, সময় তালিকাভুক্ত ১২০ প্যাকেট শুকনো খাবার বিতরণের প্রস্তুতি নেওয়া হয়। কিন্তু ত্রাণ নিতে, আসা মানুষ নানাভাবে আকুতি জানাতে থাকে বিভিন্ন ব্যক্তির, কাছে। এক পর্যায়ে ত্রাণপ্রত্যাশীরা হট্টগোল শুরু করে। ত্রাণ ছিনিয়ে, নেওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় প্রশাসন বাধা দিলে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ তাদের, সরিয়ে দেয়।

প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয় বাসিন্দা, সুমন আহমদ বলেন, হঠাৎ শতাধিক মানুষ ত্রাণের বস্তা নিয়ে টানাটানি শুরু করে। এ সময় পুলিশ ও প্রশাসনের, লোকজন তাদের লাঠিপেটা করে।

Leave a Reply

x