শেখ হাসিনার পাশে দাঁড়ানোর মানুষ গুলো শেষ হয়ে যাচ্ছে!

আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধান’মন্ত্রী শেখ হাসিনাকে এক প্রতিকূল পরিবেশের মধ্য দিয়ে রাজনীতি করতে হয়েছে এবং তাঁর এই রাজনৈতিক পথচলায় ঘরে বাইরে সংগ্রাম কর’তে হয়েছে। এই দীর্ঘ সময় তিনি খুব কম মানুষই পেয়েছেন যারা স্বার্থহীন, বিশ্বস্ত এবং কোনরকম প্রশ্ন ছাড়াই তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছেন।

১৯৮১ সালে যখন তিনি দেশে ফে’রেন তখন জোহরা তাজউদ্দীন, সাজেদা চৌধুরীর মতো মানুষকে শেখ হাসিনা পাশে পেয়েছিলেন এবং তাঁরাই শেখ হাসিনার পাশে অ’তন্দ্র প্রহরী’র মতো থেকে দলের ভেতরে যে জঞ্জাল এবং আবর্জনা ছিল সেই আব’র্জনা পরিষ্কারে সহায়তা করেছি’লেন।

আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিভিন্ন সময়ে জোহরা তাজউদ্দিনের দুঃসময়ে পাশে থাকার কথা স্ম’রণ করেছেন। সেই জোহরা তাজউ’দ্দিন চলে গেছেন বহু আগে।

আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই দীর্ঘ সময়ে সবসম’য়ে কাছে পেতেন সাজেদা চৌধুরীকে, কিন্তু সাজে’দা চৌধুরী এখনো বেঁচে থাকলেও তাঁর শারীরিক অবস্থা এতটাই খা’রাপ যে, শেখ হাসিনার পাশে দাঁড়ানোর মতো পরিস্থিতি নেই বললেই চলে। তবুও আওয়ামী লীগ সভাপ’তি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁকে যথাযথ সম্মানের সাথেই রেখেছেন।

দেশে ফেরার পর শেখ হাসিনা’কে স্বৈরাচার বিরোধী আ’ন্দোলন করতে হয় এবং ৯০ সালে স্বৈরাচার সরকারের পতন ঘটে। ৯০ সালে স্বৈরাচার সরকারের পতনের পর নির্বাচনে আওয়ামী লীগ বিস্ময়করভাবে পরাজিত হয় এবং এই পরাজয়ের পর দলের ভেতর নানারকম ষড়’যন্ত্র শুরু হয়।

আওয়ামী লীগ সভাপতি তখন এই সমস্ত ষড়যন্ত্রে তিক্তবির’ক্ত হয়ে দলের সভাপতি পদ থেকে পদত্যা’গের ঘোষণা দেন। এই সময়ে শেখ হাসিনার পদত্যাগ পত্র প্রত্যাখান করা এবং তৃণমূলের আকা’ঙ্ক্ষা ধারণ করে দলকে ঐক্যবদ্ধ করার ক্ষেত্রে অনবদ্য ভূমিকা রেখেছিলেন প্রয়াত মোহাম্ম’দ নাসিম।

সেসময় তিনি ৩২ নম্বরের সামনে আম’রণ অবস্থান কর্মসূচী গ্রহণ করেছিলেন যতক্ষণ পর্যন্ত না শেখ হাসিনা তাঁর পদত্যাগ পত্র প্রত্যা’হার না করেন। সেই মোহাম্ম’দ নাসিমও সম্প্রতি মা’রা গেলেন। আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার রাজনৈতিক জীবনে একদিকে যেমন তাঁকে জা’তীয় রাজনীতির দিকে গুরুত্ব দিতে হয়েছে, ঠিক তেমনি অবহেলিত গোপালগঞ্জের দিকেও খেয়াল রাখতে হয়েছে।

দুটো কাজ সামলাতে তাঁর এমন একজন ব্যক্তির দরকার ছিল যিনি গোপালগঞ্জের মানুষে’র সুখদুঃখ দেখভাল করবেন সার্বক্ষণিকভাবে এবং তা শেখ হাসিনাকে জানাবেন, শেখ হাসিনা সেইভাবে ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। সেই গোপালগঞ্জের রাজনীতিতে শেখ হাসিনার বিশ্বস্ত প্রতিনিধি শেখ আবদু’ল্লাহও করো’না যু’দ্ধে পরাজিত হয়ে চলে গেছেন।

২০০৪ সালে গ্রেনেড হা’মলার সময় শেখ হাসিনা শুধুমাত্র সৃষ্টিক’র্তার কৃপায় বেঁচে গেছেন এবং সেই সময়ে বুক পেতে যিনি শেখ হাসিনাকে আগলে ধরে রেখেছিলেন সেই মোহাম্ম’দ হানিফ, ঢাকার প্রথম মেয়র তিনিও এখন নেই।

মোহাম্ম’দ হানি’ফ সেসময় নিজের জীবনকে বাজি রেখে শেখ হাসিনাকে রক্ষা করার চেষ্টা করেছিলেন। ২০০৭ সালে ওয়ান ইলেভেন আসলে শেখ হাসিনাকে মাইনাস করার এক নোংরা ষড়যন্ত্র শুরু হয় আও’য়ামী লীগের দলের ভেতর এবং দলের বাইরে।

সেসময় শেখ হাসিনার পাশে বিশ্বস্ত’তার প্রতীক হয়ে দাড়িয়ছিলেন প্রয়াত জিল্লুর রহমান, প্রয়াত সৈয়দ আশরাফুল ইস’লাম এবং প্রয়াত এডভোকেট সাহারা খাতুনের মতো নেতারা। এই ৩ নেতাই এখন আর নেই। জিল্লুর রহমান রাষ্ট্রপতি থাকাব’স্থায় মৃ’ত্যুবরণ করেছেন। ওয়ান ইলেভেনের সময় তিনি শেখ হাসিনার মাইনাসের বি’রুদ্ধে কেবল সোচ্চারই ছিলেন না, দলের ভেতর ঐক্য বজায় রাখায় সচেষ্ট হয়েছিলেন। আর সৈয়দ আশরা’ফুল ইস’লাম তখন সংস্কারপন্থিদের বি’রুদ্ধে সোচ্চার হয়ে দ’লকে আগলে রেখেছিলেন।

এদের কারণেই ২০০৮ এর নির্বাচনে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বিপুল বিজয় লাভ করে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। আর সেসম’য় এডভোকেট সাহারা খাতুনের ভূমিকা নতুন করে বলার কিছু নেই। সাহারা খাতুনও গতকাল চলে গেছেন।

এভাবে শেখ হাসিনার দুঃসময়ে যারা পাশে দাঁড়াতেন তাঁরা একে এ’কে চলে যাচ্ছেন। শেখ হাসিনার পাশে দাঁড়ানোর মানুষের সংখ্যাও আস্তে আস্তে কমে যাচ্ছে। সামনে দিনগু’লোতে শেখ হাসিনার পাশে দাঁড়ানোর মানুষ কে সেই প্রশ্ন করে আওয়ামী লীগের তৃণমূলের কর্মীরাই এখন শঙ্কিত হয়ে ওঠেন।

Articles You May Like

Leave a Reply

x