লাজুক মেধাবী ছেলেটি আজ দেশসেরা ম্যাজিস্ট্রেট সারোয়ার আলম..!

দিনাজপুরে হিন্দু ধর্ম ত্যাগ করে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করলেন একই পরিবারের ৪ জন.!

ক্লাসে ছিল লাজুক ও শান্তশিষ্ট, লেখাপড়ায় ছিল বেশ মনোযোগী। প্রাথমিক স্কুলে ক্লাসের ফাঁকে অন্য সবাই যখন’ খেলাধুলা আর হইহুল্লোড়ে মেতে উঠত, তখন সে বেশ মনোযোগস’হকারে ক্লাসে একা বসে পড়াশোনায় মগ্ন থাকত। পড়াশোনায় বেশ ভালো ও শান্তশিষ্ট স্বভাবের হাওয়ায় শিক্ষকরা তাকে অনেক আ’দর করতেন। ছোটবেলা থেকে নম্র ও ভদ্র স্বভাবের হওয়ায়’ পাড়া-প্রতিবেশী সবাই তাকে খুব স্নেহ করতেন এবং খোকা ব’লে ডাকতেন। কিন্তু কে জানত, লাজুক সেই খোকা হয়ে’ উঠবেন দেশের আ’লোচিত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট!’
ইন্দোনেশিয়ার আকাশে অদ্ভূত ধোয়ার কুণ্ডলী দেখে পালাচ্ছে মানুষ..!

মো. সারোয়ার আলম ১৯৭৮ সালে ২৮ ডিসেম্বর কি’’শোরগঞ্জ জে’লার পাকুন্দিয়া পৌর সদরের বড়বাড়িরতে জন্মগ্রহ’ণ করেন।ব্যবসায়ী বোরহান উদ্দিন ও গৃহিণী আ’মেনা খাতুনের এ’কমাত্র পুত্রসন্তান সারোয়ার আলম। ছয় ভাই-বোনের মধ্যে সবা’র বড় তিনি।সারওয়ার আলম ২৭তম বিসিএসে ক্যাডার সার্ভিসে যোগদান করেন। এর আগে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রা’ণি’বিদ্যা বিভাগে পড়াশোনা শেষ করেন। ছয় ভাই বোনের মধ্যে স’বার বড় সারওয়ার।
ইংল্যান্ডে শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের নামাজ আদায়ে শিক্ষিকার বাধা..!
সৎ ও মেধাবী কর্মক’র্তা হিসেবে পরিচিত পাওয়া সার’ওয়ার আলম র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নে (র‌্যা’­ব) যোগদা’নের পর থেকে সব সময় আ’লোচিত ছিলেন। কর্ম’দক্ষতা আর নিষ্ঠার পরিচয় দিয়ে গেছেন বারংবার। ব্যক্তিস্বার্থ নয়, বরং তি’নি প্রাধান্য দিয়েছেন দেশ ও জনগণের স্বার্থকে। স্বার্থান্বেষী মহল তার কাজে অসন্তুষ্ট থাকলেও জনগণ তাকে অফুরান ভালোবাসা দিয়ে ‘বরণ করে নিয়েছে।’
ইংল্যান্ডে শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের নামাজ আদায়ে শিক্ষিকার বাধা..!
তার উল্লেখযোগ্য কাজের মধ্যে বিশেষ করে ভেজাল খাদ্য, নকল প্রসাধনী ছাড়াও অ’বৈধ হাসপাতাল পরিচালনা, মা’দ’কবিরোধী অ’ভিযান এবং আ’লোচিত ক্যাসিনো অ’ভিযান অন্যতম। ২০১৯ সালে ফকিরাপুলে ক্যাসিনোতে ও যুবলীগ নেতা জি কে’ শামীমের অফিসে অ’ভিযান ছিল সবচেয়ে আ’লোচিত। এসব’ ক্ষেত্রে সামনের সারিতে থেকে অ’ভিযান পরিচালনা করেছেন তিনি। এ ছাড়া ৮ মা’র্চ দেশে করো’নার সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়া’র’ পর থেকে কোয়ারেন্টিন ও সামাজিক দূরত্ব নি’শ্চিত, নকল মাস্ক-‘গ্লাভসের বি’রুদ্ধে অ’ভিযান পরিচালনা করেছেন র‌্যা’­বের এই সাবেক চৌকস কর্মক’র্তা।’

এ ছাড়া ফার্মগেটে পদচারী-সেতু দিয়ে চলাচল না’ করে সড়ক পারাপারের ঘটনায় নামমাত্র জ’রিমানা করে যাত্রীসা’ধারণকে সচেতন করেন তিনি। কি’শোর গ্যাং আ’ট’কে অ’’ভিযান, কুকুর ও পশুর মেয়াদোত্তীর্ণ ভ্যাকসিন উ’দ্ধার, নামীদা’মি হাসপাতা’লে অ’ভিযান, হ’জের টিকিট জালিয়াতির বি’রুদ্ধে ‘অ’ভিযান, পুরান ঢাকার কেমিকেল অ’ভিযান ও জ’ড়িতদের ‘জে’ল-জ’রিমানাসহ অসংখ্য আ’লোচিত অ’ভিযানে অং’শ নিয়ে দেশজুড়ে একনামে পরিচিত হয়ে ওঠেন অ’প’’রাধী চক্রের পিলে কাঁপানো সারওয়ার আলম। সর্বশেষ পুরান ঢাকা”য় হাজী সেলিমের বাড়িতে অ’ভিযান ও ভ্রাম্যমাণ আ’দালত’ পরি”চালনা করে তিনি আরও আলোচনায় আসেন।”

সারোয়ার আলম বর্তমানে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদে’শিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে সিনিয়র সহকারী সচিব হিসেবে দায়িত্ব পাল’ন করছেন।১৯৮৩ সালে তার শিক্ষাজীবন শুরু হয় বাড়ির পা’শের ইসমাইল মেমোরিয়াল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে। ১৯”৯৩ সালে পাকুন্দিয়া পাইলট উচ্চবিদ্যালয় (বর্তমান পাকুন্দি”য়া সরকারি উচ্চবিদ্যালয়) থেকে এসএসসি পরীক্ষায় প্রথম বিভা”গ পেয়ে ভর্তি হয় কি’শোরগঞ্জ গুরুদয়াল সরকারি কলেজে।”

১৯৯৫ সালে কি’শোরগঞ্জ গুরুদয়াল সরকারি কলেজ” থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় প্রথম বিভাগ অর্জন করে ঢাকা” বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন প্রা’ণিবিদ্যা বিভাগে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের “প্রা’ণিবিদ্যা বিভাগ থেকে ২০০৫ সালে প্রথম শ্রেণিতে স্নাতকোত্ত”র পাস করেন তিনি। সারওয়ার আলম ২০০৮ সালে ২৭তম বিসিএ”সে উত্তীর্ণ হয়ে যোগ দেন প্রশাসনে।বিশ্ববিদ্যালয়জীবনে নিয়মিত পড়াশোনা করে ভালো ফল করার পাশাপাশি করেছেন টিউশনি। “”তিনি অস্ট্রেলিয়ার সিডনি থেকে ইনস্টিটিউট অব পাবলিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশনে ডিপ্লোমা ডিগ্রিও অর্জন” করেছেন।

সারওয়ারের সহপাঠী মো. আবু নোমান ঢাকা পোস্ট”’কে জানান, সারওয়ার আলম খোকা আমা’র ক্লাসমেট ছিল। ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত আম’রা একসঙ্গে লেখাপড়া করে”ছি। সে অনেক ভালো ছাত্র ছিল এবং বন্ধুবৎসল। খুবই বিনয়ী।’ স্যারদের প্রতিও শ্রদ্ধাশীল ও বিনয়ী ছিল।”

তার চাচাতো ভাই মো. আল আমিন বলেন, আমা’’র চাচতো ভাই মো. সারওয়ার আলম খোকা। সে ছোটবেলা ‘থেকেই লেখাপড়ার প্রতি অ’ত্যন্ত মনোযোগী ছিল। তার ব্য’বহার এমন কোমল ছিল যে আমি কোনো দিন দেখিনি কারও সঙ্গে ঝগড়া করতে। সে নিয়মিত স্কুলে যেত এবং পড়ালেখা “‘করত। গভীর রাতে সজাগ হয়ে শুনতাম সারওয়ার আলম খোকা”র পড়া।

আল আমিন আরও বলেন, সে যখন গু’রুদয়াল কলেজে পড়ত, তখন মাস্টার বাড়ির একটা মেসে সে থাকত’। সেখা’নেও সে ভালো লেখাপড়া করত এবং আমি সেখানে যেতাম ও দেখাশোনা করতাম। ওইখান থেকে ইন্টারমি’ডিয়েট ‘পাস করা’র পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রা’ণিবিদ্যা বিভাগে ভর্তি হয়। সে’খানে ফজলুল হক হলে সে থাকত। আমি ঢাকায় কো’নো কাজে গেলে ওর রুমে থাকতাম। আমি শুয়ে থেকে দেখতাম, সা’রা রাত ‘”সে পড়ত। তখন থেকেই তার লক্ষ্য ছিল একজন আদর্শ মানুষ হবে এবং দেশের সেবা করবে। ছোটবেলায় তার যেমন’ ‘মনো”ভিত্তি ছিল, এখনো দেখছি তার মনোভিত্তি সে রকম। আমি’ তার সাফল্য কামনা করি।’

পাকুন্দিয়া সরকারি উচ্চবিদ্যালয়ের সহ’কারী শিক্ষক মো. হাবিবুল্লাহ তমিজ বলেন, সারওয়ার আলম খোকা ‘আমা’র ছাত্র ছিল। আমি যখন পড়াতাম, তখন সে ক্লাস সেভেনে ছিল। তখন শিক্ষকদের ধ’র্মঘট চলছিল। তার উৎসাহে তাকে’ ও তার কয়ে’কজন বন্ধুকে নিয়ে আমা’র রুমের মধ্যে দরজা লাগি’য়ে পড়াতাম। একদিন আমি ইউএনওর অফিসে গিয়ে দেখি খোকা বসে আছে। খোকা এসে আমাকে পা ছুঁয়ে সালাম কর’ল। ইউএনও বিষয়’টা দেখল, এত অ’ভিডিয়েন্ট ছে’লে, এ’ত বড় চাকরি করার পরও একজন স্যারকে সে সালাম করছে, এ জন্য সে অনেক ‘ধন্যবাদ পেল ইউএনওর কাছ থেকে। আমি সব সময় তার জন্য দোয়া করি। আল্লাহ তাকে আরও বড় মানুষ করুক।

১৯৮৩ সালে সারওয়ারের শিক্ষাজীবন শুরুর দিককার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ইসমাইল মেমোরিয়াল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যাল’য়ে সাবেক সহকারী শিক্ষক রেনু মাস্টার বলেন, সারওয়ার আলম খুব ভালো ছাত্র ছিল। মেধা খুব ভালো ছিল। সবার সঙ্গে’ মিলেমিশে চলত। গ্রামের বিভিন্ন সমস্যা সে দূরীভূত করেছে। অনেকে ‘আমাকে বলে যে সারওয়ার কি আপনার ছাত্র? আমি বলি জি, হ্যাঁ। এ বিষয়টাই আমি খুব গর্ববোধ করি।

সারওয়ার আলমের বাবা মো. বোরহান উ’দ্দিন ঢাকা পোস্ট’কে জানান, আমা’র ছে’লে সারওয়ার আলম ছো’টবেলা থেকেই বেশ নম্র ভদ্র ছিল। আল্লাহ রহমতে লেখা’পড়ায় ভালো ছিল। বর্তমানে তার চেষ্টায় এবং আল্লাহ অশেষ রহমতে সে এ পর্যন্ত এগিয়ে এসেছে। এ জন্য আমি তার পিতা হিসেবে গর্বিত।মো. সারওয়ার আলম ২০০৯ সালে চট্টগ্রামের ‘মে’য়ে সানজিদা শারমিন লিন্ডার সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আব’দ্ধ হন। তাদের চারটি মেয়ে রয়েছে। যাদের নাম মাহরিন সামা’রা, নাজিফা সাফরিন, তানহা ও মানহা। সূত্রঃ ঢাকা পোস্ট

Leave a Reply

x