যুদ্ধবিরতির পর গাজায় দ্বিতীয় দফা ইসরাইলি বিমান হামলা

অব’রুদ্ধ ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড গাজায় গত মাসের যুদ্ধ শেষে প্রতিষ্ঠিত যুদ্ধ’বিরতির দ্বিতীয় বারের মতো বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরাইলি সামরিক বাহিনী। বৃহস্পতি’বার রাতে ইসরাইলি যুদ্ধ বিমান’গুলো কয়েক দফায় এই হামলা চালায়।

ফিলিস্তিনি সূত্রের বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদ’মাধ্যম আলজাজিরায় জানানো হয়, উত্তর-পূর্ব গাজা শহরে ও বাইত লাহিয়া শহরের উত্তরে স্বাধীনতা’কামী সশস্ত্র সংগঠন’গুলোর অবস্থানে বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরাইল। এছাড়া জাবালিয়ার পূর্বে এক বেসামরিক ভবন ও খান ইউনুস শহরের বাইরে পূর্বে অবস্থিত কৃষি’জমিও আক্রমণের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে। হামলায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

এর আগে গত মাসে জেরুসালেমের শেখ জাররাহ মহল্লা থেকে ফিলিস্তি’নিদের উচ্ছেদে ইসরাইলি আদালতের রায় ও মসজিদুল আকসায় মুসল্লিদের ওপর ইসরাইলি নিরাপত্তা বাহিনীর আক্র’মণের জেরে গাজা উপত্যকা নিয়ন্ত্রণ’কারী ফিলিস্তিনি স্বাধীনতা’কামী সংগঠন হামাস ইসরাইলের সাথে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। টানা ১১ দিন ইসরাইলি বিমান হামলা ও হামাসের রকেট নিক্ষেপের পর মিসরের মধ্যস্থতায় দুই পক্ষের মধ্যে যুদ্ধ’বিরতি প্রতিষ্ঠিত হয়।

যুদ্ধ’বিরতির পর বুধবার গাজায় প্রথম বারের মতো হামলা চালায় ইসরাইলি যুদ্ধ’বিমান। রোববার ইসরাইলে সরকার পরিবর্তনের পর এটিই গাজায় প্রথম ইসরাইলি হামলা।

বৃহস্পতি’বার ইসরাইলি বিমান হামলার পর হামাসের মুখ’পাত্র ফাউজি বারহুম এক বিবৃতিতে বলেন, ‘প্রতিরোধ আন্দোলনের অবস্থানে দখলদার’দের বোমা হামলা ইসরাইলের নতুন সরকারের প্রদর্শনী। আমাদের জনগণ ও পবিত্র স্থানের প্রতি’রক্ষায় প্রতিরোধ আন্দোলন নজর রাখছে।’

হামাসের আল-আকসা টিভিতে জানানো হয়, গাজার পশ্চিমে এক ইসরাইলি ড্রোন’কে হামাসের যোদ্ধারা ভূপাতিত করেছে।

অন্যদিকে ইসরাইলি সংবাদ’মাধ্যমে জানানো হয়, অবরুদ্ধ ভূখণ্ড থেকে আগুনে বেলুন হামলায় সামরিক বাহিনী হামাসের অবস্থানে হামলা করেছে।

ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর এক বিবৃতি’তে বলা হয়, তারা হামাসের সামরিক সক্ষম’তা ও অবকাঠামো ধ্বংসের কাজ অব্যাহত রাখবে এবং গাজা উপত্যকার পরি’স্থিতির জন্য তাদের জবাব’দিহিতার মুখোমুখি করবে।

অধি’কৃত জেরুসালেমের শেখ জাররাহ মহল্লা থেকে ফিলিস্তিনি বাসিন্দা’দের উচ্ছেদ করে ইহুদি বসতি স্থাপনে গত ২৫ এপ্রিল আদেশ দেয় ইসরাইলি এক আদালত। এই জেরে ফিলিস্তিনি’দের বিক্ষোভে পরপর কয়েক দফা মসজিদুল আকসায় হামলা চালায় ইসরাইলি বাহিনী। ৭ মে থেকে ১০ মে পর্যন্ত এই সকল হামলায় এক হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি আহত হয়েছেন বলে জাতি’সঙ্ঘের মানবিক সাহায্য বিষয়ক দফতর ইউএনওসিএইএ।

মসজিদুল আকসা চত্ত্ব’রে মুসল্লিদের ওপর ইসরাইলি নিরাপত্তা বাহিনীর হামলার পরি’প্রেক্ষিতে ১০ মে স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে মসজিদ থেকে সৈন্য সরিয়ে নিতে ইসরাইল’কে আলটিমেটাম দেয় গাজা নিয়ন্ত্রণ’কারী ফিলিস্তিনি স্বাধীনতা’কামী সংগঠন হামাস। আলটিমেটাম শেষ হওয়ার পর গাজা থেকে ইসরাইলের বিভিন্ন লক্ষ্য’বস্তুতে হামাস রকেট হামলা শুরু করে।

ইসরাইলি সেনা’বাহিনী জানিয়েছে, গাজা থেকে ইসরাইলি ভূখণ্ডে মোট চার হাজার তিন শ’ ৬০টি রকেট নিক্ষেপ করেছে হামাস। ইসরাইলি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আয়রন ডোমে বেশিরভাগ রকেট ধ্বংস করা হলেও বেশ কিছু রকেট ইসরাই’লের বিভিন্ন স্থানে আঘাত হানে। রকেট হামলায় ইসরাইলের ১৩ অধিবাসী নিহত ও সাত শ’ ৯৬ জনের বেশি আহত হয়েছেন।

ইসরাইল ভূখ’ণ্ডে হামাসের রকেট হামলার পরি’প্রেক্ষিতে ১০ মে রাত থেকেই গাজায় বিমান হামলা শুরু করে ইসরাইল। ইসরাইলি বিমান হামলায় ৬৬ শিশু ও ৩৯ নারীসহ ২৫৭ ফিলিস্তিনি নিহত হন। হামলায় আহত হয়েছেন আরো এক হাজার নয় শ’ ৪৮ গাজা’বাসী।

গাজায় ইসরাইলের টানা ১১ দিনের আগ্রা’সনের পর ২০ মে রাতে ইসরাইল ও হামাস যুদ্ধ’বিরতিতে সম্মত হওয়ার ঘোষণা দেয়। মিসরীয় উদ্যোগে এই যুদ্ধবিরতির প্রচেষ্টায় ইসরাইলি মন্ত্রি’সভার অনুমোদনের পর ২১ মে সকাল থেকে তা কার্যকর হয়।

সূত্র : আলজাজিরা

Leave a Reply

x