মোহনগঞ্জে আটকা , পড়েছে হাওর এক্সপ্রেস, পাঁচ লাখ মানুষ পানিবন্দি..!

অব্যাহতভাবে ভারি বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের কারণে, নেত্রকোনার বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনতি হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার, জেলার কলমাকান্দা, দুর্গাপুর ও বারহাট্টা উপজেলার বিস্তীর্ণ, অঞ্চল বন্যা আক্রান্ত হয়। শুক্রবার দিনেদিনে নেত্রকোনা, সদরসহ আটপাড়া, মোহনগঞ্জ, মদন, খালিয়াজুরী উপজেলার বিশাল এলাকা পানির নিচে চলে গেছে।

পানির চাপে ময়মনসিংহ-মোহনগঞ্জ রেললাইনের, বারহাট্টা উপজেলার ইছলামপুর এলাকায় একটি ব্রিজ, ভেঙে গেছে। এতে মোহনগঞ্জে সাথে সারা দেশের রেল যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। মোহনগঞ্জে অনির্দিষ্টকালের, জন্য আটকা পড়েছে হাওর এক্সপ্রেস ট্রেন। সীমান্ত, উপজেলা কলমাকান্দার সাথে যোগাযোগ রক্ষাকারী সড়ক ও জনপথের ঠাকুরাকোনা-কলমাকান্দা সড়কের ওপর, বিভিন্ন অংশে এক থেকে তিন ফুট পানি। মোহনগঞ্জ, বাসস্ট্যান্ডও তিন ফুট পানির নিচে। এতে যান চলাচল প্রায় বন্ধ। মাঝে মাঝে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল, করছে দু-একটি বাস-ট্রাক। বন্যা আক্রান্ত এলাকা বৃদ্ধি, পাওয়ায় প্রায় পাঁচ লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে বলে বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে। পরিস্থিতি, মোকাবেলায় ত্রাণ তৎপরতা চালাচ্ছে প্রশাসন।

জানা যায়, শনিবার সকাল ৭টার দিকে, রেললাইনের অতিথপুর-মোহনগঞ্জ স্টেশনের মাঝামাঝি,, ৩৪ নম্বর ব্রিজের মাটি ধসে পড়ে। একপর্যায়ে সাইড-ওয়ালও ভেঙে যায়। আজ শনিবার ভোর, সাড়ে ৬টার দিকে হাওর এক্সপ্রেস মোহনগঞ্জে পৌঁছায়। সকাল ৮টার,, দিকে ট্রেনটি ছেড়ে আসে। পড়ে ব্রিজের মাটিধসের বিষয়টি, জানতে পেরে আবার মোহনগঞ্জেই ফিরে যায় ট্রেনটি। এতে শত শত যাত্রী ভোগান্তির শিকার হয়েছে।

অপরদিকে, সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ময়মনসিংহ, থেকে ২৬২ নম্বর ডাউন লোকাল ট্রেন বারহাট্টা স্টেশনে, আসে। কিন্তু ব্রিজ ভেঙে যাওয়ার কারণে ট্রেনটি এখান থেকেই ফিরে যায়। তবে ঢাকা থেকে, বারহাট্টা পর্যন্ত ট্রেন চলাচল অব্যাহত থাকবে বলে, জানিয়েছে সূত্রটি। বারহাট্টা রেলওয়ে স্টেশনের মাস্টার গোলাম রব্বানী বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

এদিকে, আক্কাস আলী (২৭) নামে এক যুবক, বন্যার পানিতে ভেসে নিখোঁজ হওয়ার খবর, পাওয়া গেছে। দুর্গাপুর উপজেলার চন্ডিগড় ইউনিয়নের তেলাচী গ্রামে শুক্রবার সন্ধ্যার দিকে এ ঘটনা, ঘটে। নিখোঁজ আক্কাছ দুর্গাপুর পৌরসভার দশাল মহল্লার আব্দুর রহিমের ছেলে।

দুর্গাপুর ফায়ার স্টেশনের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, শফিকুল ইসলাম জানান, শনিবার কিশোরগঞ্জ থেকে ডুবুরীদল, এসে আক্কাছ আলীর মরদেহ উদ্ধার করেছে।
জেলা প্রশাসক অঞ্জনা খান মজলিশ বলেন, ‘বন্যার্তদের জন্য, আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। আক্রান্তদের, আশ্রয়কেন্দ্রে আসার জন্য আহ্বান জানানো হয়েছে। অনেকেই এসেছেন। ইউএনওদের কাছে, শুকনো খাবার, চাল, ডাল ও নগদ টাকা পাঠিয়েছি। সকল, উপজেলায় কন্ট্রোলরুম খুলে আক্রান্তদের ২৪ ঘণ্টা নজরদারিতে রাখা হয়েছে।

Leave a Reply

x