মাশরাফি বিন মর্তুজা ও তামিম ইকবাল!

ম্যাশ ও তামিম নি:সন্দেহে বাংলাদেশ ক্রিকেটের দুটি বড় নাম।কারন দলটার জন্য তাদের অবদান আপনি অস্বীকার করলে আপনার সমস্যা অন্য জায়গায়।২০১৯ বিশ্বকাপ তাদের ভিলেন বানিয়ে দিয়েছে কিছু মানুষের কাছে।কারন কি শুধু নয় ম্যাচে এক উইকেট পাওয়া অফ ফর্ম ক্যাপ্টেন,আর নয় ম্যাচে এক ফিফটি ও রোহিত এর ক্যাচ মিস করা অফ ফর্মে থাকা দেশসেরা ওপেনার?

বাস্তবিক অর্থে মনে হয় না এখানে তাদের দোষ।মূলত তাদের দোষ হলো একজন দেশের সংসদ সদস্য আরেকজন আকরাম খান এর ভাতিজা।সেজন্য তাদের গুষ্টি উদ্ধার করতে হবে আপনার।কিছু একটা হলেই মাশরাফি এমপি,তামিম ভাতিজা কৌটার প্লেয়ার বলতে হবে।

কাওকে নিয়ে সমালোচনা করার জন্য তার সমতুল্য হতে হয় না,তবে ম্যাশ ও তামিম কে নিয়ে সমালোচনা করা সবার উদ্দেশ্যে একটা কথা না বললেই নয় ‘মাশরাফি ও তামিম বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশ কে প্রতিনিধিত্ব করছে,দিনশেষে কোথাও তামিম,মাশরাফি লিখা থাকবে না বরং থাকবে বাংলাদেশ এর নাম।ঘরে বসে কিবোর্ড যোদ্ধা না হয়ে রাস্তায় বের হন,রাস্তায় পরে থাকা একটা পলিথিন নিয়ে ডাস্টবিনে ফেলে দিন।এতে দেশের বিন্দুমাত্র হলেও উপকার হবে।ঘরে বসে মানুষের দেশপ্রেম নিয়ে প্রশ্ন না তুলে,কিবোর্ড নিয়ে যুদ্ধ না করে রাস্তায় নামুন।আপনি হয়ত জানেনই না আপনার এই কটুকথা কতটা মানষিক ভাবে ভেঙ্গে দেয় প্লেয়ার দের।’

এবার কিছু ক্রিকেটিও যুক্তি দেই:
১.ম্যাশের বোলিং ২০১৪-১৫ থেকেই ১৩০-১৩৫ এর ওপারে যায় নাই।এই বোলিং নিয়া যদি ইংল্যান্ডের মাঠে ৫ উইকেট চান তাহলে ক্রিকেট আপনি বুঝেন না।তবে তিনি কখনই কম গতি নিয়ে বাজে বোলিং করেন নি।শেষ ট্রাই-নেশন সিরিজের চতুর্থ সেরা বোলার ছিলেন তিনি।লক্ষ লক্ষ ক্রিকেট ভক্ত সেদিন নিজের প্রোফাইলে তার ছবি দিয়েছিলেন।একবার চিন্তা করুন এমন পারফরম্যান্স এর পরেও যদি মাশরাফি কে বোর্ড বিশ্বকাপ দলে না নিত,তাহলে আপনাদের রিয়াকশন কেমন হত?
আর তার ক্যাপ্টেনসি কেমন তা দলের সবাই জানে ও বুঝে।তাদের যদি এই বুড়ো সংসদ সদস্যের নেতৃত্বে খেলতে সমস্যা না থাকে তাহলে আপনি দলের এমন কি হয়ে গেছেন যে তাকে ক্যাপ্টেন্সি থেকে সরাবেন?

২.তামিমের ক্ষেত্রে যা হচ্ছে সব স্বাভাবিক।একজন ব্যাটসম্যান অফ ফর্মে থাকতেই পারে আর ক্যাচ মিস হতেই পারে।এমন তো না যে আকরাম খানের ভাতিজা না হলে তামিম ক্যাচটা ধরতে পারতো আর ৯ ম্যাচে ৯০০+ রান করতো।
কিন্তু প্রশ্ন হলো তামিম আকরাম খানের ভাতিজা হয়ে দেশের ক্রিকেটে সর্বোচ্চ রানের মালিক,উইজডেনের বর্ষসেরা হইছে।মনে রাখবেন আপনিও কোন চাচার ভাতিজা।

ক্রিকেট সম্পুর্ন বিনোদন এর খোরাক।এটাকে জীবন বানিয়ে নিলে আপনি কষ্ট পাবেন স্বাভাবিক।তাই সবার উচিৎ ইমোশন কে নিয়ন্ত্রণ করা।বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের পাশে ভাল ও খারাপ উভয় সময়েই থাকা।

Leave a Reply

x