মাত্র পাওয়া: আবরার হত্যায় ২০ জনের মৃত্যুদণ্ড.!

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ব’বিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগে করা মাম’লায় ২০ জনের মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। বুধবা’র (৮ ডিসেম্বর) ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচার’ক আবু জাফর মো. কামরুজ্জামান এ রায় ঘোষণা করেন।এর আ’গে সকালে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে ২২ আসামিকে আদা’লতে হাজির করা হয়। মামলার বাকি তিন আসামি শুরু থেকে পলা’তক।

আবরার হত্যা মামলার রায় ঘিরে আদালত পাড়া’য় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বেড়েছে আইনশৃঙ্খ’লা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারি। আদালত পাড়ার প্রধান ফটক ‘থেকে শুরু করে বিভিন্ন পয়েন্টে অবস্থান নিয়েছেন তারা।এদি’কে মামলার রায় ঘোষণা ঘিরে আদালত পাড়ায় উৎসুক মানুষের ‘উপচেপড়া ভিড় লেগেছে। সকালে আবরারের বাবা ও আসামিদে’র ‘স্বজনেরা আদালত প্রাঙ্গণে উপস্থিত হন। বেলা বাড়ার সঙ্গে” সঙ্গে আলোচিত এ রায়কে কেন্দ্র করে সাধারণ মানুষ, আইনজীবী, পুলিশ, সাংবাদিকদের উপস্থিতিও বাড়তে থা’কে।

গত ২৮ নভেম্বর রায় ঘোষণার দিন ধার্য ছিল।’ তবে রায় প্রস্তুত না হওয়ায় ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১-এ’র বিচারক আবু জাফর মো. কামরুজ্জামান রায় ঘোষণার জন্য’ ৮ ডিসেম্বর দিন ধার্য করেন।আগের ধার্য দিনে রায় ঘোষণা না করার বিষয়ে বিচারক বলেন, রাষ্ট্র ও আসামিপক্ষের আইনজী”বীরা যে যুক্তি উপস্থাপন করেছেন, তা বিশ্লেষণ করে রায় প্রস্তু’ত করা এখনো সম্ভব হয়নি। রায় প্রস্তুত করতে আরও সময় লা’গবে। তাই এ মামলার রায় ঘোষণার জন্য ৮ ডিসেম্বর দিন ধার্য ‘করা হলো।গত ১৪ নভেম্বর রাষ্ট্র ও আসামিপক্ষের যুক্তি ‘উপস্থাপন শেষে ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারক আ’বু জাফর মো. কামরুজ্জামান রায় ঘোষণার জন্য ২৮ নভেম্বর ‘দিন ধার্য করেছিলেন।

ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের বিভিন্ন চুক্তির সমা’লোচনা করে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেওয়ার জেরে আবরার ফাহাদকে ২০১৯ সালের ৬ অক্টোবর রাতে ডেকে নেন বুয়েট শাখা ‘ কয়েকজন নেতাকর্মী। ওই দিনগত রাত ৩টার দিকে শেরেবাংলা হলের ‘দোতলার সিঁড়ির করিডোর থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।পরদিন ৭ অক্টোবর দুপুরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপা’তাল মর্গে আবরারের মরদেহের ময়নাতদন্ত হয়। নিহত ‘আবরার বুয়েটের ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের দ্বিতীয়বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। শেরেবাংলা হলে’র ১০১১ ‘নম্বর কক্ষে থাকতেন তিনি।

ওই ঘটনায় আবরারের বাবা বরকত উল্লাহ বাদী’ হয়ে চকবাজার থানায় ১৯ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের ক’রেন। ২০১৯ সালের ১৩ নভেম্বর ঢাকা মহানগর হাকিম আদা’লতে ২৫ জনকে অভিযুক্ত করে চার্জশিট দেন মামলার তদন্তকারী’ কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের পরিদর্শক ওয়াহিদুজ্জামান।অভিযুক্ত ২’৫ জনের মধ্যে এজাহারভুক্ত ১৯ জন ও তদন্তে প্রাপ্ত আরও ছয়জন। এজাহারভুক্ত ১৯ জনের মধ্যে ১৭ জন ও এজাহার-বহি’র্ভূত ছয়জনের মধ্যে পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারদের মধ্যে’ আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন আটজন’।

গ্রেফতার ২২ জন হলেন- মেহেদী হাসান রা’সেল, মো. অনিক সরকার, ইফতি মোশাররফ সকাল, মো. মেহে’দী হাসান রবিন, মেফতাহুল ইসলাম জিওন, মুনতাসির আল’ম জেমি, খন্দকার তাবাখখারুল ইসলাম তানভির, মুজাহিদুর রহমান, মুহতাসিম ফুয়াদ, মনিরুজ্জামান মনির, আকাশ হোসেন, ‘হোসেন মোহাম্মদ তোহা, মাজেদুর রহমান, শামীম বিল্লাহ, মোয়াজ ‘আবু হুরায়রা, এ এস এম নাজমুস সাদাত, ইসতিয়াক আহ’ম্মেদ মু’ন্না, অমিত সাহা, মিজানুর রহমান ওরফে মিজান, শামসু’ল আরেফিন রাফাত, মোর্শেদ অমত্য ইসলাম ও এস এম মাহমুদ সেতু।

মামলার তিন আসামি এখনো পলাতক। তারা হলে’ন- মোর্শেদুজ্জামান জিসান, এহতেশামুল রাব্বি তানিম ও মোস্তবা রাফিদ। তাদের মধ্যে প্রথম দুজন এজাহারভুক্ত ‘ও শেষের জন এজাহার-বহির্ভূত আসামি।২০২০ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারক আবু জাফর মো’. কামরুজ্জামান আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠ’ন ‘করেন। মামলায় মোট ৬০ জন সাক্ষীর মধ্যে ৪৬ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়।

Leave a Reply

x