প্রবাসী স্বামীর টাকায় যুবকের সঙ্গে ঢাকায় লিভিং  টুগেদারে ছিলেন সাথী…!

জানা যায়, ২০১৮ সালে শুভ’র সঙ্গে ফেসবু’ক ও টিকটকের মাধ্যমে পরিচয় হয় সাথীর। স্বামী প্রবাসী ও দীর্ঘ’দিন ধরে দেশে না আসায় সাথী ফেসবুক ও টিকটক নিয়ে ব্যস্ত’ হয়ে পড়ে। সারাদিন ফেসবুক চালাতো আর টিকটক ভিডিও ‘তৈরি করে ফেসবুকে আপলোড করতো। ২০১৮ সালে সামা’জিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুকের মাধ্যমে সাথী ‘আক্তারের সঙ্গে বগুড়ার জুবায়ের হোসেন শুভর (২৩) পরিচয়।’ অতঃপর প্রেম। প্রেম থেকে শুভ পরিণয়ের আশায় প্রথম স্বামীকে তালাক দিয়ে গত বছরের ১ সেপ্টেম্বর জুবায়েরকে বিয়ে করেন’ সাথী। তবে মাস তিনেক না যেতেই তাদের মধ্যে শুরু হয় মনো’মালিন্য। অবশেষে বিচ্ছেদ। কিন্তু বিচ্ছেদের আট মাস পর পু’নরায় রাজধানীর খিলক্ষেতের বাসায় একসঙ্গে বসবাস (‘লিভ টুগেদার) শুরু করেন জুবায়ের ও সাথী। অবৈধ সম্পর্কের এ ”সুখের সংসারও তাদের বেশি দিন টিকল না! বিচ্ছেদের (ডিভোর্স) পরও প্রথম স্বামীর সঙ্গে যোগাযোগ এবং টিকটক-লাইকি’তে ভিডিও প্রচারসহ নানা কারণে পুনরায় তাদের মধ্যে মনোমা’লিন্য শুরু হয়। একপর্যায়ে মাত্র চার হাজার টাকা নিয়ে বিবাদের জেরে চলতি বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর ওড়না পেঁচিয়ে শ্বাসরো’ধে সাথীকে হত্যা করেন জুবায়ের।’

মাত্র ২০ দিনের মাথায় সাথী আক্তারের হত্যার রহ’স্য উদঘাটন প্রসঙ্গে এমন তথ্য জানান ঢাকা মেট্রোপলিটন গোয়ে’ন্দা পুলিশ গুলশান বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) মো. ম’শিউর রহমান। তিনি জানান, ঘটনার পরম্পরা, আলামত ও সুর’তহাল দেখে তদন্ত-সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাই ধাঁধাঁয় পড়ে যান। প্রাথ’মিকভাবে সবাই মনে করেন সাথী আক্তার আত্মহত্যা করেছে ন’। তবে” জুবায়েরকে গ্রেফতারের পর স্পষ্ট’  হয় তিনি পরি কল্পি’ত হত্যার শিকার। সাথী আক্তারের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ১৪ সে’প্টেম্বর। ১৬ সেপ্টেম্বর ‘

খিলক্ষেত থানায় নিহতের পরিবার হত্যা মাম’লা  (মামলা নং- ১৮) দায়ের করেন। মামলায় দ্বিতীয় স্বামী জু’বায়ের হোসেন শুভকে আসামি করে তাকে পলাতক দেখানো ‘হয়। গত ৩ সেপ্টেম্বর (রোববার) ভোরে চট্টগ্রামের হাটহাজারী থানার গাজী কালুসা থেকে গোয়েন্দা পুলিশ গুলশান বিভাগে’র এডিসি এস এম রেজাউল হকের নেতৃত্বে ক্যান্টনমেন্ট জোনাল’ টিমের একটি দল জুবায়ের হোসেনকে গ্রেফতার করে। ওই দিন ‘বিকেলে ঢাকা মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে তাকে সোপর্দ ক’রা হয়। সেখানে তিনি হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তি”মূলক জবানবন্দি দেন।

এ প্রসঙ্গে ডিসি মো. মশিউর রহমান বলেন, গত’ মাসে (১৪ সেপ্টেম্বর) খিলক্ষেত থানা এলাকায় সংঘটিত হ’ত্যাকাণ্ডটি এত নিখুঁতভাবে করা হয় যে আমরা দ্বিধায় পড়ে যাই’। জুবায়েরকে গ্রেফতারের পরও মনে হয়েছে তিনি (সাথী আক্তা’র) আত্মহত্যাই করেছেন। তবে, জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে জুবায়ের শিকার করেন যে তিনি সাথীকে হত্যা করেছেন। আদাল’তেও তিনি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দেন। হত্যার কারণ ‘দেখিয়ে মশিউর রহমান বলেন, সাথী আক্তারের প্রথম স্বামী’ সৌদি আরবে থাকেন। তার টাকায়’

বিলাসবহুল জীবনযাপন করতেন। থাকতেন ‘ভাড়া বাসায়, ব্যবহার করতেন স্মার্টফোন। সেই ফোন দিয়ে ভিডিও বানিয়ে টিকটিক-লাইকিতে শেয়ার করতেন। ফেসবুকে” বি’চরণ করতে গিয়ে বগুড়ার ছেলে জুবায়েরের সঙ্গে পরিচয় হয় সাথীর। এরপর প্রেম ও বিয়ের সম্পর্কে জড়ান। প্রথম স্বামীকে ‘ডিভোর্স দিয়ে থাকা শুরু করেন চট্টগ্রামে। সেখানে তাদের মনো’মালিন্য হলে গত বছরের ডিসেম্বরে দ্বিতীয় স্বামী জুবায়েরকে’ও ডিভোর্স দেন। চট্টগ্রাম থেকে বোনের বাড়ি রাজশাহীতে চলে যান সাথী আক্তার। বিচ্ছেদের পরও এ সময় প্রথম স্বামীর টাকায় চ’লতেন সাথী আক্তার। রাজশাহীতে গিয়ে ফের দ্বিতীয় স্বামী জু বায়েরের সঙ্গে যোগাযোগ হয়।চ

এ কে এম হাফিজ আক্তার বলেন, প্রত্যেকটি পরিবারেরই সুস্থ বিনোদন প্রয়োজন। টিকটক-লাইকিসহ বিভিন্ন ডিজিটাল মাধ্যমে আসক্তি এবং অবৈধ সম্পর্কের মতো সামাজিক অবক্ষয়ের বিষয়ে আমাদের আরও বেশি সচেতন হওয়া উচিত। তা না হলে এ ধরনের ঘটনা ঘটতেই থাকবে। এ বিষয়ে ডিএমপি’র গোয়েন্দা প্রধান ও পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার এ কে এম হাফিজ আক্তার বলেন, সাথী আক্তার হত্যা মামলা”টি তদন্তে চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছেন জুবায়ের। কারণ, জুবায়ের হত্যা ক’রলেও পরিকল্পিতভাবে আত্মহত্যার নাটক সাজিয়েছিলেন। তিনি বলেন, এ হত্যার নেপথ্যে কাজ করেছে টিকটক-লাইকিতে ভিডিও প্রচার, ভারতীয় সিরিয়াল দেখা এবং অবৈধ সম্পর্ক। এ ধরনের ঘটনা অহরহ ঘটছে, যা ‘আমাদের সামাজিক অবক্ষয়ের একটি রূপমাত্র।’

Leave a Reply

x