প্রতি রাতে স্বামী কনডম গুনে গুনে হাতে ধরিয়ে দেয়, ভোরে দিতে হয় টাকার হিসেব

দেহ ব্য়বসা, সমাজে এটি অ’নেক ঘৃণ্য হলেও অনেক মানুষই আছে যারা এই ব্য়ব’সায় নামে । আবার অনেকে না চাইলেও অন্যের দ্বারা প্ররো’চিত হয়ে এই পথে আসে। সে’রকমই একজন পতিতা জানিয়েছেন তার কথা। তিনি বলেন

প্রতি রাতে স্বামী কন’ডম গুনে গুনে হাতে ধরিয়ে দেয়। স্বামীর দেওয়া কনডম নিয়েই রাস্তায় দাঁড়াই। তার হিসেব এখানেই। এক কন’ডম, এক খদ্দের। আর এক খদ্দের একশ টাকা। ভোরে যখন বাসায় যাই, তখন ফের কড’মের হিসেব নেয়। রাতে দশটি কনডমের ব্যবহার হলে স্বামীকে এক হাজার টাকা গুনে দিতে হয়। এক টাকা কম হলে র’ক্ষা নেই।’

বাংলাদেশের দৌলত’দিয়ার যৌনকর্মী সীমার জীবন খাতার হিসেব এটি। বয়স ৩৩ -এর ঘরে।
তবে নিজ হিসেব মেলাতে পারিনি এক’টি দিনের জন্যও। রাতের বেলায় প্রায় প্রকাশ্যে যৌন পেশায় লিপ্ত হয়ে গতর খাটা আয়েও অধিকার নেই সীমা’র। যেন জীবনের ঘানি টানতেই তার জন্ম। আর সে জীবনের স্বাদ তার কাছে বরা’বরই ফ্যাকাশে।
ফার্মগেট, চন্দ্রিমা উদ্যান আর বিজয় সরণি এ’লাকায় রাতে যেসব ভাসমান যৌন’কর্মীদের দেখা মেলে, সীমা তাদের মধ্যে অতি’পরিচিত। সিগারেটে আসক্তি থাকলেও অন্য নেশায় টান নেই এই নারীর। মূলত খদ্দের টানতেই নেশার ঘোরে শরী’রের গাঁথুনি নষ্ট করতে চাননি তিনি। ঝটপটে, চঞ্চল, ঠিক যেন হরিণের মতো। এ পাড়ায় সকল খদ্দের তার চেনা প্রায়। সীমা দাঁড়ালে অন্যের ভা’গে খদ্দের মেলা ভার।

এ দিনেও কথা বলার সম’য় ছিল না তার। গাছের গোড়ায় কাপড় টেনে ঘর বানিয়ে একের পর এক খদ্দের টান’ছেন সেখানে। কিন্তু অবেলায় বৃষ্টি বাগড়া বাধায়। মধ্য’রাতে খানিক বৃষ্টি হয়ে ছুট দেয় বটে, তবে খদ্দেরের আনা’গোনা কমে গেছে ওটুকু বৃষ্টিতেই। বৃষ্টির কারণেই অলস সময় কাটছিল রনি, তানিয়া আর সীমা’র।

খুলনার তালুকদার বংশের মেয়ে সীমার শৈশব কেটেছে সুখে’র আদলে। কিন্তু ডানপিটে স্বভাবের হওয়ায় সে সুখে স্থির হওয়া হয়’নি। পড়ালেখায় ইতি টেনে মনের খেয়ালে শৈশবে একবার চলে যায় সিলেট হযরত শাহজালাল (র.) এর মাজারে। সেখানে কয়েক দিন কাটিয়ে ট্রেনে করে চলে আসে কমলা’পুর স্টেশনে।

২০০১ সালের কথা। আর এখানেই নিভতে শুরু করে জীবনের স্বপ্ন’ময় আলো। স্টেশনেই পরিচয় হয় এক ভাসমান যৌন’কর্মীর সঙ্গে। সে সীমাকে তার বাড়িতে নিয়ে যায়। জোর করে ওই নারী তার স্বামীর বিছানায় শুইতে দেয় সীমা’কে। কিশোরী সীমার সঙ্গে রাতভর চলে ধস্তাধস্তি। তবুও যৌন কাজে বাধ্য করাতে পারে না- বল’ছিলেন সীমা।

পরের দিন এক দালালের কাছে বিক্রি করে দেয়া হয়। দালাল নিয়ে যায় পল্টনের এক আবাসিক হোটেলে। বাধ্য করায় যৌন পেশায়। এরপর আবা’রও বিক্রি। বাড়ির সঙ্গেও যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন এ সময়। এর’পর আরেক হোটেলে বিক্রি। অন্ধকার জীবনের এ গলি থেকে ও গলি। কিন্তু বাড়ি আর ফেরা হয় না।

হোটেলেই এক খদ্দেরের সঙ্গে পরি’চয়। পরিচয় থেকেই দিনে দিনে প্রেম জমে ওঠে। প্রেমিকের হাত ধরেই হোটেল থেকে মুক্তি। কিন্তু নিষি’দ্ধ পাড়া থেকে আর মুক্তি মেলে না। স্ত্রী হিসেবে ঘরে এনে দেহ ব্যবসায় বাধ্য করেন। দেহ ব্যবসার জন্যই নারায়ণ’গঞ্জ বাসা নেয়া বিয়ের মাস খানিক পর। সে বাড়িতে শ্বশুর-শাশুড়িও অবস্থান করতেন। তারাও বাধ্য করত এ পেশায়।

বছর দুই পর ভাটা পড়ে নারায়ণ’গঞ্জের বাড়িতে সীমার দেহ ব্যবসায়। স্বামী নিয়ে আসে ঢাকার তেজগাঁওয়ে। ঘটনার সময় আর স্থান বদলায় বার’বার, কিন্তু সীমার জীবনের রঙ বদলায় না আর। তবে এবার আর ঘরে নয়, সীমার দেহ ব্যবসার জন্য ঠাঁই হয় উন্মুক্ত জায়’গা।

আর আবাসিক হোটেলে ঠাঁই মে’লেনি তার। ১৭ বছরের যৌন পেশার ১৪ বছরই কেটেছে ফার্ম’গেট পার্ক, বিজয় সরণি আর চন্দ্রিমা উদ্যানে। বিয়ের পর খুলনায় বাবা’র বাড়ি গিয়েছিলেন দু’বার।

কিন্তু স্বামী নিজেই গিয়ে বদনাম ছড়িয়ে দিয়েছে সীমা’র গ্রামে। আর থাকা হয়নি বাবা’র বাড়ি। ঢাকায় ফিরে ফের স্বামীর হাত ধরেই যৌন পেশায়। এর’মধ্যে এক ছেলে এক মেয়েও জন্ম নেয় তার ঘরে। নেশায় আসক্ত স্বামীর আয়ের উত্‍স স্ত্রী সীমার দেহ’টিই।

এখন দিনের আলো খুব কম দেখা মেলে সীমার। সারা’রাত গতর খেটে ঘুমান দিনভর। ছেলেমেয়ে জানে, তাদের মা একটি হাসপাতালে কাজ করেন। সন্তান’দের পড়ালেখা, বাড়ি ভাড়া, সংসার আর স্বামীর নেশার টাকার সবই আসে…

Leave a Reply

x