তিন বছর ধরে ছাত্রীকে ধর্ষণ, ছাত্রীর আত্মহত্যা, শিক্ষকের বিরুদ্ধে মামলা

কিশোর’গঞ্জের পাকুন্দিয়ায় শিক্ষকের ধর্ষণের শিকার হয়ে ফেস’বুকে স্ট্যাটাস দিয়ে মাশফি সুমাইয়া নামের এক কলেজ ছাত্রীর আত্ম’হত্যার ঘটনায় মামলা হয়েছে। রোববার বিকেলে ওই ছাত্রীর বাবা মো: শামীম মিয়া বাদী হয়ে পাকু’ন্দিয়া থানায় মামলাটি দায়ের করেন।

মামলায় অভিযুক্ত শিক্ষক রাসেল আহমেদ’কে একমাত্র আসামি করা হয়েছে। ঘটনার পর থেকে ওই শিক্ষক পলাতক রয়েছেন। রাসেল আহমেদ কিশোর’গঞ্জ জেলার করিম’গঞ্জ উপজেলার নোয়াবাদ গ্রামের রহমত আলীর ছেলে। বর্তমানে তিনি ঢাকার একটি কলেজে প্রভা’ষক হিসেবে কর্মরত আছেন।

পাকুন্দিয়া থানার পরি’দর্শক (তদন্ত) মো: শ্যামল মিয়া মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

জানা যায়, উপজেলার ষাইট’কাহন গ্রামের মো: শামীম মিয়ার মেয়ে মাশফি সুমাইয়া কিশোর’গঞ্জ সরকারি মহিলা কলেজের গণিত বিভাগের অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষা’র্থী ছিলেন। ২০১৭ সালে সে কালিয়াচা’পড়া চিনিকল উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাশ করে। ওই স্কুলে পড়াকালীন সময়ে স্কুলের খণ্ড’কালীন শিক্ষক রাসেল আহমেদের কাছে প্রাইভেট পড়তো সে।

সেই সুবাদে রাসেল আহমে’দের সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে সুমাইয়ার। দু’জন পৃথক স্থানে থাকলেও তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক চল’ছিল। গত তিন বছর ধরে বিয়ের প্রতি’শ্রুতি দিয়ে সুমাইয়াকে ধর্ষণ করে আসছিল রাসেল। গত শুক্রবার গোপনে অন্য একটি মেয়ে’কে বিয়ে করে রাসেল। এমন খবর সইতে না পেরে পরের দিন শনিবার সকাল ৭টার দিকে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে নিজ বাড়ির ঘরের আড়ার সাথে আত্ম’হত্যা করে সুমাইয়া।

আত্মহত্যা করার আগে ওই শিক্ষকের ছবি’সহ ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দেয় সুমাইয়া। ওই স্ট্যাটাসে সে লিখেছিল, ‘বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিন বছর ধরে ছাত্রীকে ধর্ষণের পরে অন্য মেয়েকে বিয়ে করে ছাত্রী’কে আত্মহত্যা করতে বাধ্য করা আমার প্রিয় শিক্ষক। আর সেই ভাগ্য’বান ছাত্রী আমি নিজে। আল্লাহ আমায় মাফ করো। দেশে এমন শিক্ষক আর কোনো ছাত্রী’র জীবনে না আসুক। সবাই আমায় মাফ করবেন। সদ্য এসএসসি পাস করা একটা মেয়ে বিয়ের মানে এসব জান’তামই না। ভদ্র স্যার’কে বিশ্বাস করতাম। যা বলতো তাই শোনতাম। যাই হোক, ভালো থাকুক সে….বিদায়।

পাকুন্দিয়া থানার পরি’দর্শক (তদন্ত) মো: শ্যামল মিয়া বলেন, অভিযুক্ত শিক্ষক রাসেল আহমেদ’কে আসামি করে থানায় মামলা হয়েছে। তাঁকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

Leave a Reply

x