টাঙ্গাইলে স্ত্রীর অধিকার ও বিয়ের দাবিতে দুই নারীর অনশন

টাঙ্গাইলের সখী’পুরে সুলতানা খাতুন (২৪) নামের এক নারী স্ত্রীর অধি’কার আদায়ে বিষের বোতল আর কাবিন’নামা হাতে নিয়ে গত তিন দিন ধরে স্বামীর বাড়ির বারান্দায় বসে আছেন। তিনি ভূঞাপুর উপজেলা সদরের আজ’গর আলীর মেয়ে।

অপরদিকে সোম’বার (২ আগস্ট) সকাল থেকে কালিহাতীতে বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে অনশন শুরু করেছেন এক কলেজ’ছাত্রী। তিনি সখীপুর উপজেলার বাসিন্দা ও সরকারি সা’দত কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের ছা’ত্রী।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনি’বার থেকে সখীপুর উপ’জেলার দাড়িয়াপুর দক্ষিণপাড়া ফাইলা পাগলার মাজার এলা’কায় সুলতানা খাতুন (২৪) নামের এক নারী স্ত্রীর অধিকার আদায়ের জন্য অন’শন শুরু করেছেন। স্ত্রীর অধিকার না পেলে তিনি সেখানেই বিষ’পানে আত্মহত্যা করবেন বলে হুমকি দিয়েছেন।

ওই নারী জানান, উপজেলার দাড়িয়াপুর ইউনি’য়নের ফাইলা পাগলার মাজার এলাকার মৃত মোজাফ্ফর মিয়ার ছেলে আবদুর রহিম মিয়ার সঙ্গে গাজী’পুর চৌরাস্তায় সেবা এনজিও নামে একটি প্রতি’ষ্ঠানে চাকরির সুবাদে পরিচয় হয়। এরপর তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক তৈরি হয়। ওই এনজিওতে সুল’তানা ছিলেন মাঠকর্মী আর রহিম ছিলেন সহকারী ম্যানে’জার। উভয়ের সম্মতিতে তারা ২০১৭ সালের ৩ আগস্ট সাত লাখ টাকা দেন’মোহরে বিয়ে করেন। সেই থেকে তারা স্বামী-স্ত্রী হিসেবে গাজীপুর চৌ’রাস্তার ভাওয়াল কলেজ সংলগ্ন আক্কাছ আলীর বাসায় ভাড়া থাকতেন।

কিছু’দিন আগে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কথা-কাটাকাটির এক পর্যায়ে রহিম বাসা থেকে গ্রামের বাড়ি দাড়িয়া’পুরে চলে যান। এরপর তিনি তার ব্যবহৃত ফোনের নম্বর পরিবর্তন করেন। পরবর্তীতে ওই নারী রহিমের সঙ্গে নানা’ভাবে যোগাযোগের চেষ্টা করলে তিনি তাকে স্ত্রী হিসেবে অস্বীকার করেন। পরে ওই নারী স্ত্রীর অধিকার আদায়ে কাবিন’নামা এবং বিষের বোতল হাতে নিয়ে স্বামীর বাড়ি চলে আসেন। তার আসার খবর শুনে রহিম ও তার পরিবারের লোক’জন বাড়িঘরে তালা ঝুলিয়ে অন্যত্র চলে যান।

দাড়িয়াপুর ইউ’নিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্য (মেম্বার) শাহিন আহমেদ এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন।

যোগা’যোগ করা হলে আবদুর রহিম দাবি করেন, জোর’পূর্বক তার সঙ্গে ওই নারীর বিয়ে দেয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে দাড়িয়াপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ার’ম্যান আনসার আলী আসিফ বলেন, বিষয়টি মীমাংসার জন্য বুধবার উভয় পক্ষের লোক’জনকে ডাকা হয়েছে।

অপরদিকে সোম’বার সকাল থেকে কালি’হাতীতে বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে অনশন করছেন অনার্স’পড়ুয়া এক শিক্ষার্থী। তার বাড়িতে আসার খবর পেয়ে বাড়ি ছেড়ে পালি’য়েছেন প্রেমিক রবিন।

রবিন কালিহাতী উপজেলার বাংড়া ইউ’নিয়নের ধুনাইল গ্রামের আশরাফুল ইসলামের ছেলে। অভিযোগ উঠেছে, তরুণী’কে শারীরিক ও মানসিক’ভাবে নির্যাতন করছে রবিনের পরিবার।

অনশনরত ওই ছাত্রীর ভাষ্য’মতে, পাঁচ বছর ধরে ঢাকা কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী রবিনের সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক চলে আস’ছিল। প্রেমের একপর্যায়ে তারা মাঝে মধ্যে দেখা-সাক্ষাৎ করতেন। তাদের বাড়িতেও আসা-যাওয়া করতেন রবিন। বিয়ের প্রলোভনে রবিন তার সঙ্গে শারী’রিক সম্পর্ক করেন।

তিনি বলেন, রবিনের বাড়ির লোক’জন আমাকে নানাভাবে ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন। বিয়ে না হয় আত্মহত্যা, এছাড়া এখন আমার আর কোনো পথ নেই বলেও জা’নান ওই ছাত্রী।

বাংড়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ার’ম্যান হাসমত আলী জানান, বিষয়টি জানার পরই উভয়’পক্ষকে নিয়ে বৈঠকে বসার সিদ্ধান্ত হয়েছে। বসার পর প্রয়োজ’নীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। ছাত্রীটি এখনো অনশন চালিয়ে যাচ্ছে বলেও জানা’ন তিনি।

এ বিষয়ে সহকারী পুলিশ সুপার কালি’হাতী সার্কেল শরিফুল হক বলেন, বিষয়’টি শুনেছি। এ ব্যাপারে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Leave a Reply

x