গোসলের ছবি তুলে চাচিকে ধর্ষণ, ভিডিও ছড়িয়ে দেয়ায় তালাক

নওগাঁর বদল’গাছীতে এক গৃহবধূর (২৮) গোসলের ছবি গোপনে মোবাইল ফোনে তুলে রাখে স্বামীর ভাই’য়ের ছেলে (ভাতিজা)। পরে সেই ছবি নেটে ছড়িয়ে দেয়ার ভয় দেখিয়ে দিনের পর দিন চাচি’কে ধর্ষণ করে ভাতিজা। পরে ছবি এডিট করে ভিডিও করে বিভিন্ন মোবাইলে ছড়িয়ে দেওয়ার পর গৃহ’বধূকে তালাক দিয়েছেন তার স্বামী।

এ ঘটনায় গত ২২ মে থানায় অভি’যোগ করেছেন ভুক্তভোগী গৃহবধূ। অভিযোগের চার দিন পেরিয়ে গেলেও পুলিশ অভিযুক্ত’কে আটক করেনি।

জানা গেছে, গত ৮ বছর আগে গৃহ’বধূর বিয়ে হয়। তাদের সংসারে ৭ বছরের এক মেয়ে’সন্তান আছে। গত এক বছর আগে উপজেলার মিঠাপুর ইউনিয়নে স্বামীর ভাইয়ের ছেলে গোপনে গৃহ’বধূর ছবি ধারণ করে। ছবি থেকে ভিডিও করে ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে তাকে কু’প্রস্তাব দেয়। বিষয়’টি স্বামীকে অবগত করা হলে ভাতিজার পরিবার’কে জানায়। এতে ভাতিজা ক্ষিপ্ত হয়ে প্রতিবেশী নারীর (৩৬) মাধ্যমে স্থানীয়’দের মোবাইলে ছড়িয়ে দেয়। ভিডিও প্রকাশের পর গৃহ’বধূকে তার স্বামী তালাক দেন।

এদিকে গৃহবধূ বিচারের জন্য থানায় লিখিত অভি’যোগ করেন। অভিযোগের চার দিন পেরিয়ে গেলেও পুলিশ কোনো পদক্ষেপ নেয়’নি। সমঝোতার নামে ভুক্তভোগী’কে থানায় নিয়ে আসা হয়। থানায় সাংবাদিক আসার খবর পেয়ে ভুক্তভোগী’কে সরিয়ে দেয়া হয়।

ভুক্তভোগী গৃহ’বধূ বলেন, ভাতিজা গোপনে গোসলের ছবি তুলে ইন্টার’নেটে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে বিভিন্ন’ভাবে কুপ্রস্তাব দিত। বাধ্য হয়ে কু’প্রস্তাবে সাড়া দিয়ে ৩-৪ দিন শারীরিক সম্পর্ক করে। গত এক বছর আগে ভাতিজা বিয়ে করে। তারপর’ও সে আমার সঙ্গে সম্পর্ক চালিয়ে যেতে বলে। এতে রাজি না হওয়ায় ছবি থেকে ভিডি’ও করে ছড়িয়ে দেয়। পরে স্বামী তাকে তালাক দেয়। আমি স্বামী ও সংসার করতে চাই। ভাতি’জার শাস্তির দাবি করেন তিনি।

গৃহবধূর স্বামী বলেন, ও হচ্ছে আপন চাচা’তো ভাইয়ে ছেলে (ভাতিজা)। সমস্যা শুরু হলে স্ত্রী তাকে জানায়। ভাতিজার বাবা-মাকে জানানো হলে কিছু’দিন ভালো ছিল। এরই মধ্যে ভিডিও প্রকাশ হওয়ায় আদালতের মাধ্যমে গত বৃহস্পতি’বার স্ত্রীকে তালাক দিয়েছি। কাগজটা তার কাছে হয়ত পৌঁছেনি।

প্রতিবেশী নারী তার বিরুদ্ধে অভি’যোগ অস্বীকার করে বলেন, কয়েক দিন আগে আমার বাড়িতে পিক’নিক করে খাবারের আয়োজন করা হয়েছিল। এ সময় ভাতিজা তার মোবাইলে মেমোরি কার্ড দিয়ে আমার বাড়ি’তে টিভিতে গান দেখছিল। এমন সময় ওই ভিডিও’টি দেখে ছেলেরা চিৎকার দিয়ে উঠে। পরে ঘরের ভেতরে এসে টিভি’টা বন্ধ করে দেওয়া হয়। মেমোরি কার্ড’সহ তাকে ধরে গৃহবধূর স্বামীর কাছে নিয়ে যাই। তবে ভিডিওটি আমি ছড়ায়’নি।

এ ব্যাপারে অভি’যুক্ত ভাতিজার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তার মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় বক্তব্য পাওয়া যায়’নি।

বদল’গাছী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্ম’কর্তা (ওসি) আতিকুল ইসলাম বলেন, গত ২৪ মে গৃহ’বধূ লিখিত অভিযোগ করেছেন। একটি ভিডিও ক্লিপ সংগ্রহ করা হয়েছে। ভিডিও’টি অস্পষ্ট হওয়ায় ভিডিওটির সঙ্গে গৃহবধূ বা অভি’যুক্তের তেমন মিল খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।

তিনি বলেন, অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত’সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। অভিযুক্ত’কে এলাকায় পাওয়া যাচ্ছে না।

Leave a Reply

x