গৃহকর্মীকে ধর্ষণ করে নাপা খাওয়ার পরামর্শ চিকিৎসকের

রাজ’ধানীর উত্তরায় এক চিকিৎসকের বিরুদ্ধে গৃহকর্মী’কে ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। ধর্ষণের পর অসুস্থ হয়ে পড়লে ওই গৃহকর্মী’কে নাপা খাওয়ার পরামর্শ দেন ওই চিকিৎসক।

শনিবার বিকালে উত্তরার ১৩নং সেক্টরের ১৩নং রোডের ৪৩নং বাড়ির পঞ্চম’তলায় ওই চিকিৎসকের ফ্ল্যাটে এ ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় শনিবার রাতে ভুক্ত’ভোগী বাদী হয়ে উত্তরা পশ্চিম থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।

এদিকে অভিযুক্ত চিকিৎসক নিজের দোষ ঢাকতে উত্তরা পশ্চিম থানায় ভয়’ভীতি, হুমকি ও চুরির অভিযোগে উল্টো ভুক্ত’ভোগীর বোনের বিরুদ্ধে একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।

ভুক্তভোগী জানান, নেত্র’কোনা থেকে কাজের খোঁজে পাঁচ বছরের মেয়েকে নিয়ে উত্তরা এলাকায় আসেন তিনি। রুবেল নামের একজনের মাধ্যমে ডা. আহসান নুরের বাসায় দুই সপ্তাহ আগে খণ্ড’কালীন চাকরি নেন। বাসাটিতে সপ্তাহে দুই দিন কাজ করতে হতো তাকে। সেখানে ডা. নুর একাই থাক’তেন। শনিবার বেলা ২টার দিকে কাজে গেলে হঠাৎ ডা. আহসান তাকে পাশে’র রুমে ডেকে নিয়ে দরজা বন্ধ করে দেন। পরে প্রাণ’নাশের হুমকি দিতে থাকেন ডা. নুর।

তিনি আরও জানান, ডাক্তার আমা’কে বলেন- ‘আমি ডাক্তার আমার কাছে অনেক ওষুধ আছে, যা দিয়ে তোমাকে কয়ে’ক মুহূর্তের ভেতরে মেরে ফেলতে পারি। তো’মার মেয়ে আছে তাকে দেখতে চাও?’

ভুক্তভোগী বলেন, একপর্যায়ে আমাকে জোর’পূর্বক ধর্ষণ করে বাসা থেকে বের করে দেয়। বাসায় গিয়ে আমি অসুস্থ হয়ে পড়ি। পরে ওই চিকিৎসক’কে ফোন করলে তিনি একটি নাপা খাওয়ার পরামর্শ দেন।

তিনি আরও বলেন, নাপা খাওয়ার পর আরও অসুস্থ হয়ে পড়’লে ফোনে ওই চিকিৎসক’কে জানানো হয়। তখন তিনি দুইটি নাপা খাও’য়ার পরামর্শ দেন।

অসুস্থতার এক’পর্যায়ে ভুক্তভোগী তার বড়বোন’কে ধর্ষণের বিষয়ে খুলে বললে ডা. আহসানকে ফোন করেন তার বড়বোন। পরে বিষয়টি জানা’জানি হচ্ছে মনে করে তড়িঘড়ি করে উত্তরা পশ্চিম থানায় ভুক্ত’ভোগীর বড়বোনের নম্বর দিয়ে চুরি ও ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগ তুলে সাধারণ ডায়েরি করেন অভি যুক্ত ডা. আহসান নুর।

এসব বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত ডা. নুরের সঙ্গে মুঠো’ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ প্রতিবেদক’কে বলেন, ‘আপনি আমাকে কেন ফোন করেছেন? অভি’যোগ করলেই কি ধর্ষণ হয়ে গেল। প্রমাণ থাকতে হবে। আমি একটা কাজের লো’কের সঙ্গে এ কাজ করব নাকি। দেশে কি মেয়ে’র অভাব পড়েছে। এটা কোনো দেশ হলো, আমি এখান’কার না আমেরিকান সিটিজেন। আমি ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় থাকি। উত্তরায় ওটা আমার নিজস্ব ফ্ল্যাট। আপনি ফোন দেওয়ার কে, কিসের সাংবা’দিক।’

থানায় জিডি করেছেন কিনা- জানতে চাইলে তিনি স্বীকার করে বলেন, আমা’কে থ্রেট করা হয়েছে তাই আমি জিডি করেছি।

ভুক্ত’ভোগীর বড়বোন রোববার সকালে জানান, অভিযুক্ত চিকিৎসক তার দোষ স্বীকার করে এখন আপোস করার চেষ্টা চালা’চ্ছেন।

উত্তরা পশ্চিম থানার ওসি শাহ আক্তারু’জ্জামান ইলিয়াস জানান, এ ঘটনায় মামলা নেয়া হয়েছে। ভুক্ত’ভোগীকে মেডিকেল টেস্টের জন্য সকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাই’সিস সেন্টারে পাঠানো হয়েছে।

Leave a Reply

x