গর্ভবতী মায়ের, মর্যাদা ও করণীয়..!

মানব জন্মের এক বিশেষ প্রক্রিয়া। মাতৃত্বের মর্যাদাপূর্ণ,, এ অবস্থা আল্লাহ তাআলা নারীকে দান করেছেন, এককভাবে। নারীর গর্ভাশয়ে আল্লাহর অদৃশ্য কুদরত চলমান থাকে এ সময়ে। গর্ভবতী নারীদের এ এক, পরম সৌভাগ্য। একটি হাদিসে নারীর সন্তান, ধারণের ত্যাগ ও কষ্টকে ফজিলতপূর্ণ আমল হিসেবেও উল্লেখ করা হয়েছে।
রাসুল (সা.) বিখ্যাত নারী সাহাবি উম্মে, সালামা (রা.)-কে বলেছিলেন, তোমাদের কেউ কি এতে, খুশি নয় যে সে যখন স্বামীর পক্ষ থেকে গর্ভবতী হয় এবং স্বামী তার প্রতি সন্তুষ্টও থাকে, তখন (এই গর্ভকালীন),, সে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য সর্বদা রোজা, পালনকারী ও সারা রাত নফল ইবাদতকারীর মতো সওয়াব পেতে থাকবে। তার যখন প্রসব, ব্যথা শুরু হয়, তখন তার জন্য নয়ন শীতলকারী কী কী নিয়ামত, লুকিয়ে রাখা হয়, তা আসমান-জমিনের কোনো অধিবাসীই জানে না। সে যখন সন্তান প্রসব করে, তখন তার দুধের, প্রতিটি ফোঁটার পরিবর্তে একটি করে, নেকি দেওয়া হয়। এ সন্তান যদি কোনো রাতে তাকে জাগিয়ে রাখে (অসুখ ইত্যাদির কারণে বিরক্ত, করে মাকে ঘুমাতে না দেয়) তাহলে সে আল্লাহর, পথে নিখুঁত ৭০টি গোলাম আজাদ করার সওয়াব পাবে। (তাবরানি, হাদিস : ৬৯০৮)

গর্ভস্থ ভ্রূণ মায়ের রক্ত গ্রহণের মাধ্যমে ধীরে, ধীরে বেড়ে ওঠে। এ সময় মায়ের চিন্তা-চেতনা ও মন-মানসিকতার বি,রাট প্রভাব পড়ে সন্তানের ওপর। তাই সতর্ক চালচলন ও সুষম খাদ্য গ্রহণের পাশাপাশি চিন্তামুক্ত, জীবনযাপন ও উন্নত আমলের প্রতি মনোযোগী হতে, হবে মায়েদের। গর্ভাবস্থায় নারীদের নির্দিষ্ট কোনো আমল নেই। তবে সন্তানের ওপর ইতিবাচক, প্রভাব ধরে রাখতে হলে দৈনন্দিনের প্রতিটি আমল যথাযথভাবে, আদায় করতে হবে। পাশাপাশি বেশ কয়েকটি আমলে বিশেষ গুরুত্ব দিলে আল্লাহর পক্ষ, থেকে সুসন্তানের আশা করা যেতে পারে।

গুনাহ থেকে বেঁচে থাকা
প্রথমত, হারাম খাবার থেকে, সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে। এ সময় যেহেতু মায়ের রক্ত গ্রহণ করে সন্তান বড় হয়, তাই এই রক্তে যেন, পাপের সংমিশ্রণ না থাকে। দ্বিতীয়ত, হারাম কাজ, যেমন—পরপুরুষের প্রতি

কুদৃষ্টি ও কুকল্পনা করা, টিভি কিংবা ডিভাইসের, মাধ্যমে অনৈতিক কোনো কিছু উপভোগ করা, বেপর্দা চলাফেরা করা, প্রয়োজন ছাড়া ঘর হতে বের হওয়া—,এসব থেকে বিরত থাকতে হবে; অন্যথায় সন্তানের, মাঝে এর কুপ্রভাব পড়তে পারে। কষ্ট হলেও মায়েরা, যদি চরিত্রবান সন্তানের আশায় গুনাহমুক্ত জীবনাচারে সচেষ্ট হন, আশা করা যায় আল্লাহ, তাঁকে নেক সন্তান দান করবেন, যা তাঁর পরবর্তী, জীবনকে করবে সুখময়। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘কষ্টের, সঙ্গেই আছে সুখ।’ (সুরা : ইনশিরাহ, আয়াত : ৬)

Leave a Reply

x