May 14, 2022 || 10:01 am

আল্লাহর ব্যাপারে, নেতিবাচক শব্দ ব্যবহার নিষিদ্ধ…!

সব গুণ ও বৈশিষ্ট্যই উত্তম। আল্লাহর, ব্যাপারে কোনো নেতিবাচক শব্দ ব্যবহার নিষিদ্ধ। কেননা পবিত্র, কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘আল্লাহর আছে উত্তম নামসমূহ।’,, (সুরা : আরাফ, আয়াত : ১৮০)
আল্লামা ইবনিল কায়্যিম, জাওজি (রহ.) বলেন, “আল্লাহর সব নামই প্রশংসা, গুণ ও মাহাত্ম্য বোঝায়। এ জন্য আল্লাহর, নামের সঙ্গে কোরআনে ‘হুসনা’ শব্দটি ব্যবহার, করা হয়েছে। আর হুসনা সেই গুণাবলিকে বলা হয়, যা সব বিবেচনায় পরিপূর্ণ।” (মাদারিজুস, সালিকিন : ১/১২৫)

প্রশ্ন হতে পারে—আল্লাহর গুণাবলির মধ্যে, এমন কিছু গুণ আছে যা বাহ্যত প্রশংসনীয় মনে হয় না। যেমন ‘আল-মুনতাকিম’ বা প্রতিশোধ, গ্রহণকারী। উত্তর হলো প্রতিশোধ ও কঠোরতা, সব সময় নিন্দনীয় নয়। বরং সমাজ ও সভ্যতার শৃঙ্খলা বজায়, রাখতে কখনো কখনো প্রতিশোধ গ্রহণ করা ও কঠোর হওয়া আবশ্যক হয়ে পড়ে। এ ছাড়া, আল্লাহর ‘আদিল’ বা ন্যায়পরায়ণ গুণাবলিই প্রমাণ করে, আল্লাহ প্রতিশোধ গ্রহণে কখনো অবিচার করেন না। সুতরাং প্রতিশোধ গ্রহণ ও কঠোরতা ন্যায়,, ও কল্যাণের পক্ষে। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘আমি তাদের প্রতি অবিচার করিনি, কিন্তু তারা নিজেরাই নিজেদের প্রতি, অবিচার করেছে।’ (সুরা : নাহল, আয়াত : ১১৮)

অন্য আয়াতে ইরশাদ হয়েছে, ‘আল্লাহ কখনো, মানুষের প্রতি অবিচার করেন না। কিন্তু মানুষ নিজেই নিজের প্রতি, অবিচার করে।’ (সুরা : ইউনুস, আয়াত : ৪৪)
আল্লাহর গুণাবলি নির্ধারণে বহু মানুষ, এই ভুল করে যে, কোরআনে ব্যবহৃত কিছু ক্রিয়াপদ থেকে আল্লাহ,র জন্য গুণবাচক শব্দ উদ্ভাবন করে। যেমন— কোরআনে আল্লাহ অবিশ্বাসী সম্প্রদায় ও নিজের ব্যাপারে ‘মাকার’ শব্দ ব্যবহার করেছেন, যার অর্থ ‘ষড়যন্ত্র’। কিন্তু পৃথিবীর সব, মুফাসসির এ বিষয়ে একমত যে আল্লাহর জন্য ‘ষড়যন্ত্র’ শব্দ ব্যবহার, করা নিষিদ্ধ। আল্লাহর ক্ষেত্রে ব্যবহার করতে হবে ‘কৌশল’ শব্দটি। এই হিসাবে আয়াতের, অর্থ হবে, ‘তারা ষড়যন্ত্র করল এবং আল্লাহও কৌশল, অবলম্বন করলেন। আল্লাহ সর্বোত্তম কৌশল অবলম্বনকারী।’ (সুরা : আলে ইমরান, আয়াত : ৫৪)

আল-মাউসুয়াতুল আকাদিয়া..!

Related Posts
x