অশনিসংকেত : অর্ধেকেরও বেশি, অস্তিত্ব হারিয়ে ফেলেছে কর্ণফুলী.!

২২ বছরে ভরাট হয়ে গেছে কর্ণফুলী নদীর, প্রায় ৫০০ মিটার এলাকা। ২০০০ সালে কর্ণফুলী নদী, প্রসস্থ ছিল ৯৩০.৩১ মিটার। বর্তমানে এ নদীর প্রসস্থতা দাঁড়িয়েছে ৪১০ মিটার। অপরদিকে, উজানের ঢলে নদীর একপাশে গভীরতা বাড়ায় হুমকির মুখে, পড়েছে শাহ আমানত সেতু। জরুরি ভিত্তিতে নদীর ক্যাপিটাল, ড্রেজিংসহ নদীর দু’পাশে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের দাবি জানানো হয়েছে। গত ২০ বছরে যা, ভরাট হয়েছে তা নদীকে ফিরিয়ে দেওয়াও দাবি জানান সংশ্লিষ্টরা।

জোয়ারের সময় বুঝা না গেলেও ভাটার, সময় বুঝা যায়, নদীর বাস্তব অবস্থা। সময় থাকতে সচেতন না, হলে ভবিষ্যতে আমাদের জন্য খারাপ কিছু অপেক্ষা করছে। একসময়,, কর্ণফুলী মরা নদীতে পরিণত হবে।

আজ রবিবার (২২ মে) দুপুরে,, চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে ‘কর্ণফুলী নদীর তলদেশের গভীরতা ও দখল, জরিপ ২০২২’ প্রতিবেদন প্রকাশ উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে, এ তথ্য জানান ‘কর্ণফুলী নদী ও খাল রক্ষা আন্দোলন’ নামে একটি সংগঠন।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য, পাঠ করেন পরিবেশ আন্দোলনকর্মী ও সাংবাদিক,, আলিউর রহমান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সমুদ্রবিজ্ঞান বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক নোমান সিদ্দিকী, অধ্যাপক ইদ্রিস আলী, অধ্যাপক প্রদীপ কুমার দাশ, অধ্যাপক জ,নার্দন বণিক, অ্যাডভোকেট সেলিম চৌধুরী, এস এম পেয়ার আলী, জাফর আহমদ প্রমুখ।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০০০ সালে কর্ণ,ফুলী নদীর প্রস্থ ছিল ৯৩০.৩১ মিটার। কিন্তু বর্তমানে এ নদীর, প্রস্থ দাঁড়িয়েছে ৪১০ মিটার। গত ২২ বছরে বিলীন হয়ে গেছে নদীর প্রায় ৫০০ মিটার এলাকা। এ ছাড়া একপাশে চর ও অন্যপাশে ক্রমশ, মাটি সরে যাওয়ায় শাহ আমানত ব্রিজের দক্ষিণ পাশ ধসে যেতে পারে বলে মত বিশেষজ্ঞদের।

প্রকাশিত, প্রতিবেদনে আরো উল্লেখ করা হয়, ম্যানুয়াল ও ফ্যাদোমিটারের মাধ্যমে ভাটার সময় নদীর তলদে,শের গভীরতা পরিমাপ করা হয়। এতে দেখা যায়, কর্ণফুলী ন,দীর স্বাভাবিক গতিপ্রবাহ চর পাথরঘাটা ব্রিজঘাট এলাকায় ২৫ ফুট, মাঝ, নদী বরাবর ৩৮ ফুট, উত্তর পাশে ফিরিঙ্গি বাজার ব্রিজঘাট এলাকায় ২৪ ফুট। এই, এলাকাটি নিয়মিত ড্রেজিং করায় নদীর স্বাভাবিক গতিপ্রবাহ রয়েছে।

অপরদিকে ঠিক এর ৫০০ মিটার উজানে, চাক্তাই খালের মোহনার উত্তর পাশে কর্ণফুলীর প্রকৃত সীমানা, থেকে তিন শ ফুট নদীর অংশে গভীরতা মাত্র ২ ফুট, মাঝ নদী ব,রাবর ১৩.৬ ফুট এবং দক্ষিণ পাশে তীরের কাছাকাছি গভীরতা ৪৮ ফুট। তা ছাড়া নদীর আরো ৫০০ ফুট উজানে,, উত্তর পাশে রাজাখালী খালের মোহনায় মাঝ নদীতে, গভীরতা মাত্র ৪ ফুট। কিন্তু শাহ আমানত সেতুর তিন নম্বর পিলার বরাবর নদীর গভীরতা ৬০ ফুট।
জরিপ রিপোর্টে আর,ও উল্লেখ করা হয়, কর্ণফুলী সেতুর উত্তর পাশে ১ ও ২ নম্বর পিলারের, মধ্যখানে গভীরতা ফিরিঙ্গি বাজার এলাকার পরিমাপ অনুযায়ী ২৫ ফুট থাকার কথা থাকলেও, সেখানে বর্তমান গভীরতা হচ্ছে মাত্র ৭.৭ ফুট। এছাড়া ২, ও ৩ নম্বর পিলারের মধ্যখানে গভীরতা থাকার কথা ফিরিঙ্গি বাজার এলাকার গভীরতা অনুযায়ী, ৩৮ ফুট। বাস্তবে এই দুই পিলারের মধ্যখানে চর জেগেছে।, আবার সেতুর ৩ ও ৪ নম্বর পিলার এলাকায় স্বাভাবিক গভীরতা ৩৮ ফুট থাকার কথা, থাকলেও সেখানে বর্তমান গভীরতা বেড়ে ৬৪.৭ ফুট এবং সেতুর দক্ষিণ তীরে ৪ ও ৫ নম্বর পিলারে, নদীর স্বাভাবিক গভীরতা থাকার কথা ২৮ ফুট। কিন্তু সেখানে, গভীরতা ৭৮.৬ ফুট।

জরিপ পরিচালনাকারী সংগঠনের, পক্ষ থেকে জরুরি ভিত্তিতে নদীর ক্যাপিটাল ড্রেজিংসহ নদীর, দু’পাশে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের দাবি জানানো হয়েছে। গত ২০ বছরে যা ভরাট ও দখল হয়েছে তা নদীকে ফিরিয়ে দিতে হবে। এ ছাড়া নদীর দূষণরোধে প্রশাসনস হ সংশ্লিষ্ট সকলকে উদ্যোগ নিতে হবে এবং একটি সমন্বিত পরিকল্প,নার মাধ্যমে নদীর ক্যাপিটাল ড্রেজিং করতে হবে উল্লেখ করা হয়।

কর্ণফুলী নদীর তলদেশের বাস্তব, পরিস্থিতি ও দখল নিয়ে জরিপ পরিচালনা করা হয় চলতি বছরের, ১ মার্চ থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত। এ জরিপ কাজ পরিচালনা করেন, চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট) পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ও রোড কমিউনিকেশন, বিশেষজ্ঞ ড. স্বপন কুমার পালিত, কর্ণফুলী বিশেষজ্ঞ, অধ্যাপক ড. ইদ্রিস আলী ও সমুদ্রবিজ্ঞান বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক নোমান আহমদ সিদ্দিকি।

Leave a Reply

x